সুবর্ণ বিশ্বাস,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (এমপি)-র সঙ্গে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান চিত্র, গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন এবং স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার টেকসই সমাধান নিয়ে বিষদ আলোচনা করা হয়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী নেতা, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সর্বসাধারণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ভূমিকা অপরিসীম। বর্তমান সরকার প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গ্রাহক পর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে যেকোনো অনিয়ম বা গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, কৃষিভিত্তিক এই অঞ্চলে সেচ মৌসুমে যাতে কৃষকদের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়তে না হয়, সেদিকে জেলা বিদ্যুৎ বিভাগকে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। একই সাথে প্রাক-পেইড মিটার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিভ্রান্তি দূরীকরণ, ভূতুড়ে বিল বন্ধ এবং সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।
সভায় উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি, সেচ মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা, শিল্প খাতে গ্যাস ও জ্বালানি সংকট এবং আঞ্চলিক অবকাঠামোগত নানা দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। সাধারণ মানুষের এসব ভোগান্তির কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রতিমন্ত্রী এবং পর্যায়ক্রমে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সকল সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “জনগণের সেবায় নিয়োজিত প্রতিটি দপ্তরকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি প্রকল্পের সুফল যেন সাধারণ মানুষ সরাসরি পায়, সে লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও সুশীল সমাজকে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।”
সভার শেষ পর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী ঝিনাইদহ জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প সময়মতো এবং মানসম্মত উপায়ে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগীয় প্রধানদের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।