সুবর্ণ বিশ্বাস,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি :
পাকশীতে উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাত মরদেহটিই ছিল নিঝুমেরসা, ইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের যুগান্তকারী সাফল্য ,ঝিনাইদহের মহেশপুরে নিখোঁজের দীর্ঘ ১৮ মাস পর ১৭ বছর বয়সী কিশোরী মোছাঃ নিঝুম খাতুন অপহরণ ও নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে ঝিনাইদহ জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মাশরিকুল রহমান জিম বিজ্ঞ আদালতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
ঘটনার পটভূমি ও মামলা দায়ের:
মামলার এজাহার ও তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রাম থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন কিশোরী নিঝুম খাতুন। মেয়েকে সম্ভাব্য সকল স্থানে খুঁজেও কোনো সন্ধান না পেয়ে তার মা মোছাঃ তাসলিমা খাতুন প্রাথমিকভাবে মহেশপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময়েও কোনো সূত্র না পাওয়ায় এটি অপহরণ মামলায় রূপ নেয়। তবে দীর্ঘ দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার কোনো ক্লু উদ্ধার হচ্ছিল না।
তদন্তে সাইবার ক্রাইম সেলের সাফল্য:
ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় মামলার জট খুলতে তদন্তের ভার দেওয়া হয় ঝিনাইদহ জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলকে। তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তিগত নজরদারির সহায়তায় তদন্তকারী দল মহেশপুর উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের বাসিন্দা মাশরিকুল রহমান জিমকে শনাক্ত করে। এরপর তাকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ঈশ্বরদীতে নির্মম হত্যাকাণ্ড ও ক্লু উদ্ধার:
নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে জিম স্বীকার করে যে, সে নিঝুমকে ফুসলিয়ে পাবনার ঈশ্বরদী থানাধীন পাকশী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখানেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে আসে।
জিমের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম সেলের একটি তদন্তকারী দল ঈশ্বরদী থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে পাকশী এলাকায় ঘটনাস্থল শনাক্ত করে। অনুসন্ধানে উঠে আসে, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ (নিঝুম নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর) ওই এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাতনামা অর্ধগলিত তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। সে সময় মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হতে না পেরে ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের তদন্তে প্রাপ্ত আলামত ও জিমের স্বীকারোক্তি মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উদ্ধার হওয়া সেই অজ্ঞাত মরদেহটিই ছিল নিখোঁজ নিঝুমের।
আদালতে স্বীকারোক্তি ও জবানবন্দি:
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) আসামি মাশরিকুল রহমান জিমকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে সে কিশোরী নিঝুমকে অপহরণ ও হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে জবানবন্দি প্রদান করে। আদালত তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সুশীল সমাজ ও ভুক্তভোগী পরিবারের প্রশংসা:
একটি ক্লু-লেস মামলা দীর্ঘ ১৮ মাস পর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সফলভাবে উন্মোচন করায় ঝিনাইদহ জেলা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের পেশাদারিত্ব ও ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। নিঝুমের পরিবার তদন্ত দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আসামি জিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। সত্য উদ্ঘাটনে সাইবার ক্রাইম সেলের এই নিরপেক্ষ ও সুনির্দিষ্ট তদন্ত সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে।