সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা: টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
বিশেষ প্রতিনিধি: কামরুল ইসলাম
হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভাজন-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি মামলায় দৈনিক যুগান্তরের কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি অঞ্চলের নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কাশেম এবং টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক জসিম উদ্দিন টিপুকে আসামি করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে সংগঠনটি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।
প্রেসক্লাবের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব হলো জনস্বার্থে সত্য, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা। জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে দুই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে মামলায় আসামি করা স্বাধীন সাংবাদিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সংবিধানস্বীকৃত মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী। এ ধরনের মামলা সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রকাশ কোনো অপরাধ নয়। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাব অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানায়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন টেকনাফ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল হোসাইন, সিনিয়র সহ-সভাপতি শামশুল আলম শারেক, সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন আশিক, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সোলতান আহমদ এবং সদস্য মো. কলিম, এস. কে. জাফর, কামরুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌসসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এদিকে সাংবাদিক জসিম উদ্দিন টিপু দাবি করেন, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন বিভাজন নিয়ে ধারাবাহিক সচিত্র ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরেই তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মামলার আসামি করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি গত ১৭ জুলাই ২০২৬ থেকে বিভিন্ন জাতীয় প্রিন্ট ও অনলাইন গণমাধ্যমে ইউনিয়ন বিভাজন বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন। ২৪ জুলাই হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় সংঘটিত ঘটনার দিনও তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ছবি, প্রশাসনের বক্তব্য ও স্থানীয়দের মতামত সংগ্রহ করে সংবাদ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে ইউনিয়ন বিভাজন নিয়ে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি পক্ষ তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হয়ে বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তাঁর অভিযোগ, ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁকে জড়ানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাঁর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা জীবনে মাদক, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখবেন।
একই মামলায় আসামি হওয়া দৈনিক যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কাশেম বলেন, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদে সংঘটিত ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি দাবি করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করে সংবাদ প্রকাশ করায় তাঁকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি এ মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।