জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা মেডিকেল চত্বরে সংঘর্ষ: নতুন ধারা বাংলাদেশের শান্তা ফারজানাসহ নেতাকর্মীরা কারাগারে
বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বর এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও শহীদদের অবমাননা এবং পরবর্তীতে দুই দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় আলোচিত রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’ (NDB)-এর শীর্ষ নেতৃত্ব আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছেন। সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শান্তা ফারজানা এবং চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শাহবাগ থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তাদের এই পরিণতি হয়।
সংঘাতের নেপথ্য ও পটভূমি
গত কিছুদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’ সংগঠনের কিছু বিতর্কিত কার্যক্রম। বিশেষ করে, সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শান্তা ফারজানার পক্ষ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি কটূক্তি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ জোরালোভাবে উঠতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তব্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সংক্ষুব্ধ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ফোরামের সঙ্গে দলটির দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। এই মতপার্থক্য ও ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নেয়।
প্রেসক্লাব চত্বরে ধস্তাধস্তি ও ভাইরাল ভিডিও
সংঘর্ষের এই ধারাবাহিকতার প্রথম বড় ঘটনাটি ঘটে জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে। সেখানে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ ও ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’-এর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সময় ধারণকৃত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসকে মারধরের ঘটনায় শান্তা ফারজানা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। এই সংঘর্ষের ফলে প্রেসক্লাব চত্বরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয় দফা উত্তেজনা
প্রেসক্লাবের ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চত্বরে দুই পক্ষের সমর্থকরা পুনরায় মুখোমুখি অবস্থান নেন এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রায় কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই টানটান উত্তেজনার মধ্যে ঢামেক হাসপাতালেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন শান্তা ফারজানার অনুসারীরা। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং কড়া নিরাপত্তায় শান্তা ফারজানাসহ সংশ্লিষ্টদের পুলিশ হেফাজতে নেয়।
আইনি পদক্ষেপ ও আদালতের নির্দেশ
ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরদিন শাহবাগ থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রেসক্লাব ও হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, মারামারি, সরকারবিরোধী উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
এই মামলায় পুলিশ ‘নতুন ধারা বাংলাদেশ’-এর চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি শান্তা ফারজানাকে প্রধান অভিযুক্তদের তালিকায় রেখে গ্রেপ্তার দেখায়। পরবর্তীতে কঠোর পুলিশ প্রহরায় তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি শুনানির পর আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তথ্যসূত্র ও সূত্র নির্দেশ: প্রাসঙ্গিক এই সংবাদটি তৈরিতে মূলধারার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দৃশ্যমান ভিডিও ক্লিপ এবং শাহবাগ থানা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।