উখিয়ায় বিজিবি-র্যাবের পৃথক অভিযানে সার পাচারকারী আটক, ৫০ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩
জামাল উদ্দীন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজারের উখিয়ায় পৃথক অভিযানে সার পাচারের সময় এক যুবককে আটক করেছে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)। অন্যদিকে র্যাব-১৫ এর অভিযানে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিনজন কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ জুলাই) রাত ১২টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী বটতলী এলাকায় অবস্থান নেয়। পরে রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে পালংখালী বাজার থেকে একটি ইজিবাইকযোগে মিয়ানমারে সার পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় মো. শাহাজাহান (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি উখিয়া উপজেলার পূর্ব ফারির বিল এলাকার মৃত মনজুর আলমের ছেলে।
পরে ইজিবাইকটি তল্লাশি করে ৬ বস্তা বাংলাদেশি ইউরিয়া সার, একটি মোবাইল ফোন, একটি সিমকার্ড, একটি হাতঘড়ি এবং পাচারকাজে ব্যবহৃত ইজিবাইকটি জব্দ করা হয়। তবে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েও অন্য কোনো অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়নি।
এদিকে র্যাব-১৫ জানায়, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৬ জুলাই দুপুর ১টা ১০ মিনিটে র্যাব-১৫, সিপিসি-২ এর একটি আভিযানিক দল উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের উখিয়া দক্ষিণ স্টেশন এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে।
এ সময় একটি সন্দেহভাজন সিএনজি অটোরিকশাকে থামানোর সংকেত দিলে চালক ও আরোহীরা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে নুরুল হাকিম (২৮), মো. ইদ্রিস (৪৮) ও শামসুল আলম (২৪)-কে আটক করেন। তাদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে ৫০টি এয়ারটাইট পলিপ্যাকেট থেকে মোট ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে উদ্ধারকৃত ইয়াবা, জব্দকৃত সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্ত দিয়ে সার, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য বাংলাদেশি পণ্য পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারায় নয়, মাদক, চোরাচালান ও সার পাচার প্রতিরোধেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”