ওয়ালী রহমান, নাসিরনগর, প্রতিনিধি,
বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর মাত্র কয়েকদিন পরই মর্ত্যে আসছেন দেবী দুর্গা।
দুর্গোৎসবকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কোথাও তৈরি হচ্ছে পূজামণ্ডপ, কোথাও চলছে আলপনা, কোথাও তৈরি হচ্ছে বিশাল প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জার কাজ। সব মিলিয়ে চারদিকে বিরাজ করছে উৎসবের ভিন্ন এক আমেজ।
আগামী ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে ২০২৬ ইং সালের শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কর্ম ব্যস্ততা, উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
সরজমিনেবিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গাপূজার অন্যতম আকর্ষণ দেবী দুর্গার প্রতিমা।
তাই প্রতিমা তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন নাসিরনগরের প্রতিমা শিল্পীরা। বাঁশ, খড়, দড়ি ও মাটির নিপুণ কারুকাজে ধীরে ধীরে রূপ ধারণ করছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। পূজামণ্ডপে দেবীর নান্দনিক রূপ ফুটিয়ে তুলতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন তারা।
কারিগরদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিবারের প্রতিমা। প্রতিমা তৈরির দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন পূজা মণ্ডপে ভিড় করছেন নানান বয়সী মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী ও বয়স্করাও কৌতূহল নিয়ে ঘুরে দেখছেন প্রতিমা তৈরির কাজ।
এদিকে পূজাকে সামনে রেখে নাসিরনগর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপেও চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মণ্ডপে মন্ডপে চলছে আলোকসজ্জা, আলপনা, তোরণ নির্মাণ ও নান্দনিক সাজসজ্জার কাজ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তথ্য মতে, নাসিরনগর উপজেলায় এবার *১৪২টি পূজামণ্ডপে* শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
পূজামণ্ডপে যখন আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে দেবী দুর্গার প্রতিমা, তখন দর্শনার্থীদের চোখে ধরা পড়ে শিল্পের সৌন্দর্য। কিন্তু সেই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে প্রতিমা শিল্পীদের দীর্ঘ পরিশ্রম, সীমিত আয়, অনিশ্চিত জীবিকা এবং শত প্রতিকূলতার মধ্যেও শতবর্ষের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এক নীরব সংগ্রামের গল্প।
অপরদিকে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতি বছর এ উৎসবকে ঘিরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তৈরি হয় আনন্দ, উৎসাহ, উদ্দীপনা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।