সুবর্ণ বিশ্বাস,
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি :
৮ অক্টোবর ২০২৪
একদিকে চাঁদাবাজি আর সন্ত্রাসী তাণ্ডব, অন্যদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও জমি দখলের মহোৎসব। রাজনীতি আজ জনসেবার হাতিয়ার না হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতিপক্ষকে দমন ও সম্পদ দখলের হাতিয়ার হিসেবে। এই অন্যায় ও সংঘাতের রাজনীতির শিকার হয়ে দিশেহারা সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং নিরীহ পরিবারগুলো।
সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য: জিম্মি অর্থনীতি ও জনজীবন
সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, একশ্রেণির প্রভাবশালী সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা দুর্বৃত্তদের কাছে পুরো এলাকা জিম্মি হয়ে পড়েছে। ক্ষুদ্র দোকানদার থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্প উদ্যোক্তা—কাউকেই চাঁদাবাজদের থাবা থেকে রেহাই দেওয়া হচ্ছে না। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই নামিয়ে আনা হচ্ছে নির্মম অত্যাচার।
গভীর রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সরাসরি মারামারির মতো ঘটনা এখন নিত্যদিনের খবরে পরিণত হয়েছে। এতে শুধু ব্যবসায়ীরাই নিঃস্ব হচ্ছেন না, থমকে যাচ্ছে পুরো দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।
ক্ষমতার দাপটে ‘জমি দখল’ ও নিঃস্ব পরিবার
প্রতিহিংসার রাজনীতির সবচেয়ে কালো অধ্যায় ফুটে ওঠে সাধারণ মানুষের ভিটেমাটি ও জমি দখলের মাধ্যমে। বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সম্পদ এক লহমায় হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তদের পেশিশক্তির কাছে। আদালতের রায় কিংবা আইনি সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপটে ভিটেমাটিছাড়া হচ্ছে সাধারণ পরিবারগুলো। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা এই দখলদারদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।
প্রতিহিংসার রাজনীতি: ধ্বংসের মূল কারণ
রাজনীতি যেখানে হওয়ার কথা ছিল আদর্শের লড়াই, সেখানে এখন চলছে ‘যেভাবেই হোক প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ হিংসাত্মক চর্চা। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের সম্পদ, রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে রাজপথ। এই অন্যায়ের চক্রব্যূহ ভেঙে না বেরোতে পারলে সমাজ থেকে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
নাগরিক সমাজ ও আক্রান্তদের সোচ্চার প্রতিবাদ
এই অরাজক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে এখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের এক হওয়ার সময় এসেছে। ভুক্তভোগীদের স্পষ্ট দাবি:
১. জিরো টলারেন্স নীতি: দল-মত নির্বিশেষে সকল চাঁদাবাজ, দখলদার ও সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
২. নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং সম্পদের সুরক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৩. রাজনীতি থেকে অপরাধীদের দূরীকরণ: রাজনৈতিক দলগুলোকে সন্ত্রাস ও দখলের আশ্রয়দাতা ব্যক্তিদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
প্রাসঙ্গিক আহ্বান:
“অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা মানেই অপরাধীকে আরও উৎসাহিত করা। প্রতিবাদের এই কণ্ঠস্বর বন্ধ হতে দেওয়া যাবে না। সুস্থ সমাজ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হলে এই চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের রাজনীতি এখনই বন্ধ করতে হবে।”