হাবিব(বগুড়া জেলা)প্রতিনিধি :
মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে উৎসাহ দিতে বগুড়ায় এ+ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া জেলা পূর্ব শাখা। সংবর্ধনায় কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তারা বলেন,পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের পাশাপাশি জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার(৯ সেপ্টেম্বর)বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ফুলতলা আহমাদিয়া কামিল মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে সকাল ৯:৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি শাহরিয়ার হাসান বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় পাঠাগার সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খন্দকার,
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও বগুড়া মহানগর সভাপতি শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলার আমীর অধ্যক্ষ মাও. আব্দুল হক সরকার এবং গার্ডিয়ান পাবলিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলার মহিলা সভানেত্রী ডা. মাসুদা করিম,ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলামসহ আরো অনেকে বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথি হাবিবুল্লাহ খন্দকার বলেন, এ+ অর্জন শিক্ষাজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি মিলেছে। তবে জীবনের প্রকৃত সাফল্যের জন্য শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করতে হবে।তিনি বলেন,আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই নিজেদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অবনতি ঘটেছে।দেশের এই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে আমাদের উত্তরণে ইসলামী ছাত্রশিবির কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধান আলোচক শফিকুল ইসলাম বলেন, একজন শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নিয়মিত বই পড়া ও জ্ঞানচর্চার কোনো বিকল্প নেই। পরিবর্তনশীল বিশ্বে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা, গবেষণামনস্কতা ও নৈতিক চরিত্র গঠনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন,কৃতী শিক্ষার্থীদের এই অর্জন তাদের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের ফল। এই সাফল্যকে সামনে রেখে উচ্চশিক্ষার প্রতিটি ধাপে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের কল্যাণে নিজেদের মেধা ও প্রতিভা কাজে লাগাতে হবে।
অধ্যক্ষ মাও. আব্দুল হক সরকার বলেন, শিক্ষার সঙ্গে চরিত্রের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জন করতে হবে। সময়ের যথাযথ ব্যবহার ও নিয়মিত অধ্যয়নকে তিনি সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন।
নূর মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, সফলতার জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যেতে হবে। মেধার সঙ্গে পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস যুক্ত হলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানে এ+ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সংবর্ধিত শিক্ষার্থীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন এবং নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সঞ্চালক তৌফিকুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবিরের বগুড়া জেলা পূর্ব শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, কৃতী শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।