September 21, 2026, 6:27 pm
শিরোনাম:
নিউইয়র্কে বিএনপির চেয়ারম্যান,তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের উল্লাস। ঐতিহ্যবাহী মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়: শতবর্ষ পেরিয়ে দর্শনার শিক্ষার আলোকবর্তিকা গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহ পেলেন সম্মানজনক ‘বিপিএম-সেবা’ পদক নিখোঁজের ৪৮ ঘণ্টা পর ঝোপ থেকে ৭ বছরের ছাত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুরে ৫২ জন গ্রাম পুলিশ কে নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রদান  লিটন মহাজন লিটুর আরোগ্য কামনায় বিশেষ প্রার্থনা  পানছড়িতে বিএনপির সাংগঠনিক সভা,তৃণমূলকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বান উলিপুরে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন,নদী’গর্ভে স্থাপনা-ফসলী জমি, বাস্তু হারা হয়েছে দু’শতাধীক পরিবার রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক পাচ্ছেন ঝিনাইদহ ডিবির মিঠু রাঙামাটি চ্যাম্পিয়ন লিগে চ্যাম্পিয়ন বিলাইছড়ি ফুটবল দলকে সেনা জোনের সংবর্ধনা
নোটিশ:
দৈনিক মুক্তি সমাচার ও ডিএমএস টিভি (DMS TV) ​”সত্যের সন্ধানে দৃষ্টি — ডি.এম.এস.” এবং ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন ​”মানবতার সেবায় রক্তদান, বাঁচবে অকাল প্রাণ” (একটি অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ মানবিক সংগঠন) ​পরিচালনা পর্ষদ: ​ইঞ্জিনিয়ার- মোঃ আল-আমিন মোল্যা, সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সভাপতি ।।। ​মোঃ মাসুদ রানা সুমন, প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠাতা- সাধারণ সম্পাদক ।।। ​মোঃ আব্দুর রহিম সবুজ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সিনিয়র সহ সভাপতি ।।। কর্তৃপক্ষ’র নোটিশ ব্যতীত কোনো ধরনের লেনদেন করবেন না; যদি করেন- কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেনা । ​যোগাযোগের তথ্য ও লিঙ্কসমূহ: ​অনলাইন আবেদন ফরম: https://forms.gle/p9ZvVivX35GsaeoAA, ওয়েবসাইট ভিজিট করুন: www.muktisamachar.com, ​ই-মেইল: dailymuktisamachar@gmail.com, ​সরাসরি যোগাযোগ: (মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ): (প্রকাশক)- ​📞 +৮৮০১৮২৮-৭৯২৭৫৫, (সম্পাদক)- 📞 +৮৮০ ৯৬৩৮-৭৫১৮১০, ​প্রধান কার্যালয়: ইস্টার্ন হাউজিং, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬ ।।। ​যে-কোনো সংবাদ, বিজ্ঞাপন বা তথ্যের জন্য আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন ।৷ ​”দুই মাসেই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে—প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।”

ঐতিহ্যবাহী মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়: শতবর্ষ পেরিয়ে দর্শনার শিক্ষার আলোকবর্তিকা

Reporter Name

মোঃ নাঈম উদ্দীন,জীবননগর উপজেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

 

বাঙালি জাতির শিক্ষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রবাহে স্কুল কেবল কিছু পাঠ্যবই আর চার দেয়ালের শ্রেণিকক্ষ নয়; স্কুল মানেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্বপ্ন বোনার কারখানা। নদীমাতৃক এই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জনপদ দর্শনা তার বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের জন্য সুপরিচিত হলেও, এই জনপদের শেকড়ে শিক্ষার প্রসারে যে প্রতিষ্ঠানটি শতাব্দীকাল ধরে নীরবে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে, তার নাম মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ১৯১৬ সালে বাঁশের খুঁটি আর খড়ের চালে যে প্রদীপ জ্বেলেছিলেন এক দূরদর্শী শিক্ষানুরাগী, তা আজ এক মহীরূহে পরিণত হয়ে শতবর্ষ পার করে চলছে ভবিষ্যতের পানে।

 

অবিভক্ত বাংলার নদীয়া জেলার পারকৃষ্ণপুর গ্রাম। আজকের মতো তখনো যাতায়াতব্যবস্থা বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে ওঠেনি। সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়া ছিল এক দূরহ ব্যাপার। সেই ব্রিটিশ শাসনামলে, ১৯১৬ সালে, এলাকার শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুধাবন করেন শিক্ষানুরাগী স্বর্গীয় বাবু বিপ্রদাস বিশ্বাস। তাঁরই উদ্যোগে এবং স্থানীয় কিছু সমমনা মানুষের প্রচেষ্টায় দর্শনায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিদ্যালয়টি।

 

স্থানীয় ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯১২ থেকে ১৯১৩ সালের দিকে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক প্রস্তুতি ও ভাবনা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠাতার নামের আদ্যক্ষর অনুসারে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় “বি.ডি.” (বিপ্রদাস)।

 

আজকের সুদৃঢ় পাকা ভবন বা ডিজিটাল ক্লাসরুমের যুগে দাঁড়িয়ে ১০০ বছর আগের একটি বিদ্যালয়ের চিত্র কল্পনা করা সত্যিই কঠিন। ইতিহাসের পাতা সাক্ষ্য দেয়, মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক অবকাঠামো ছিল অত্যন্ত সাদামাটা—বাঁশের খুঁটি, খড়ের চাল এবং চাটাইয়ের বেড়া। বৃষ্টিতে চালা দিয়ে জল পড়া কিংবা রোদে গরমে অতিষ্ঠ হওয়ার মাঝেই চলত পাঠদান।

 

তবে অবকাঠামোর এই সীমাবদ্ধতা কখনো শিক্ষার স্পৃহাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পরবর্তীকালে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, দানশীল মানুষ ও শিক্ষানুরাগীদের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে বিদ্যালয়টির স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে ওঠে। এটি প্রমাণ করে যে, বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের ভিত্তি ইটের গাঁথুনিতে নয়, বরং একটি অটুট স্বপ্ন এবং মানুষের ঐকান্তিক ইচ্ছাশক্তিতে নিহিত থাকে।

 

প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে বিদ্যালয়টি তার গুণগত মান ও প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রগতির স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হয়। ১ জানুয়ারি ১৯২০ সালে বিদ্যালয়টি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি লাভ করে। তৎকালীন সময়ে একটি মফস্বল অঞ্চলের বিদ্যালয়ের জন্য এই স্বীকৃতি অর্জন ছিল অত্যন্ত গৌরবের এবং এটি বৃহত্তর শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বিদ্যালয়টিকে যুক্ত করেছিল।

 

মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাঙালি জাতির বহু ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের নীরব সাক্ষী।

ব্রিটিশ আমলের গর্ভে জন্ম নেওয়া এই বিদ্যালয় পার করেছে—

১৯৪৭ সালের দেশভাগ,

পাকিস্তান আমল,

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়।

 

বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দর্শনা ও দামুড়হুদা অঞ্চলের রণকৌশলগত গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। বাংলাপিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে পারকৃষ্ণপুরসহ বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় পাকবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষের ইতিহাস রয়েছে। যুদ্ধের চরম দুর্দিনেও এই জনপদের মানুষ শিক্ষার গুরুত্ব ভোলেনি।

 

বিদ্যালয়টির প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্বের আরেকটি বড় স্বীকৃতি মেলে ১৯৭৩ সালে। ১৯৭৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২৮৩ নম্বর এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে এই কেন্দ্রটি এই অঞ্চলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

 

একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেবল জিপিএ-৫ বা সনদ তৈরি করে না, বরং সুনাগরিক গড়ে তোলে। মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইতিহাসে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে।

খেলাধুলা ও আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতা

সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা

স্কাউটিং ও গার্ল-ইন-স্কাউটিং

রেড ক্রিসেন্টের মানবিক কার্যক্রম

 

এই বহুমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মননে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বীজ বপন করা হয়েছে যুগ যুগ ধরে।

 

যেকোনো শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আঙিনা থেকে জ্ঞান অর্জন করে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা আজ দেশ ও বিদেশের নানা প্রান্তে আলো ছড়াচ্ছেন।

 

শিক্ষা, প্রশাসন, চিকিৎসা, বিচার বিভাগ, প্রকৌশল, কৃষি, ব্যবসা, সামরিক ও বেসামরিক চাকরি থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তনীরা সুনামের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। বহু পরিবারের দাদা, বাবা এবং নাতি—তিন প্রজন্মের শিক্ষার ঠিকানা এই মেমনগর বি.ডি. বিদ্যালয়।

 

২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে তার গৌরবময় শতবর্ষ (১০০ বছর) পূর্ণ করে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শতাব্দী টিকে থাকা মানে শত বছরের শিক্ষকতা, শত বছরের স্মৃতি, এবং হাজার হাজার মানুষের জীবনের না বলা গল্প।

 

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চ্যালেঞ্জও বদলেছে। আজকের একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টির সামনে এখন নতুন পথচলার হাতছানি। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, বিজ্ঞানমনস্কতা, নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং আধুনিক বিশ্বমানের উপযোগী করে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলাই এখনকার মূল লক্ষ্য।

 

বাঁশের খুঁটি আর চাটাইয়ের বেড়া থেকে শুরু করে আজকের এই সুপ্রতিষ্ঠিত অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে রয়েছে অসংখ্য মানুষের অবদান। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হয় প্রতিষ্ঠাতা স্বর্গীয় বাবু বিপ্রদাস বিশ্বাসকে, সেই সঙ্গে দামুড়হুদা-দর্শনার সকল শিক্ষক, অভিভাবক, দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের—যাঁদের রক্ত-ঘামে তিল তিল করে গড়ে উঠেছে এই আলোকবর্তিকা।

 

মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় শুধু চুয়াডাঙ্গার দর্শনার একটি ভূখণ্ড বা স্কুল ভবন নয়; এটি এই জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল। অতীতের গৌরবময় পথচলা আর ভবিষ্যতের সুন্দর স্বপ্নের মধ্যে সেতুবন্ধন হয়ে এই প্রদীপ জ্বালানো থাকুক অনন্তকাল।

 

📍 একনজরে পরিচিতি:

নাম: মেমনগর বি.ডি. মাধ্যমিক বিদ্যালয়

অবস্থান: দর্শনা, দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা

প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯১৬ সাল

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি: ১ জানুয়ারি ১৯২০

এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র কোড: ২৮৩ (যশোর বোর্ড)



ফেসবুকে আমরা