সুবর্ণ বিশ্বাস,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) বিকাশ ও নগদের সাধারণ গ্রাহকদের লক্ষ্য করে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক সংঘবদ্ধ চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে বাগেরহাট জেলা পুলিশ। জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাইবার স্কোয়াড ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রতারক চক্রের এই সদস্যদের আটক করা হয়। আটককালে তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একাধিক স্মার্টফোন, বিপুল সংখ্যক নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সিম কার্ড এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি বাগেরহাট জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিকাশ ও নগদ গ্রাহকদের নানা কৌশলে বিভ্রান্ত করে আসছিল। সাম্প্রতিক সময়ে বাগেরহাটের একাধিক ভুক্তভোগী প্রতারণার শিকার হয়ে লাখ লাখ টাকা হারানোর পর থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বাগেরহাট জেলা পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতাসহ পাঁচ সদস্যকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতারক চক্রটি গ্রাহকদের ফাদে ফেলতে অত্যন্ত সুচতুর কৌশল ব্যবহার করত বলে জানিয়েছে পুলিশ। সাধারণত তারা চার থেকে পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল:
ভুয়া হেড অফিস ও কর্মকর্তা পরিচয়: নিজেদের বিকাশ বা নগদ হেড অফিসের কর্মকর্তা, সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার অথবা কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধি দাবি করে কল দিত। অ্যাকাউন্টে কারিগরি সমস্যা বা পিন ব্লক হওয়ার ভয় দেখিয়ে পিন ও ওটিপি (OTP) হাতিয়ে নিত।
ভুল টাকা পাঠানোর নাটক: ‘ভুল করে অ্যাকাউন্টে টাকা চলে গেছে’ বলে ভুক্তভোগীকে ফোন করত এবং একই সঙ্গে ভুয়া ট্রানজেকশন এসএমএস পাঠিয়ে আসল মেসেজের বিভ্রান্তি তৈরি করত। সরল বিশ্বাসে টাকা ফেরত দিতে গিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টের পিন শেয়ার করে প্রতারিত হতেন গ্রাহকরা।
লটারি ও ক্যাশব্যাক অফার: সরকারি অনুদান, লটারি জয় কিংবা আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাক অফারের লোভ দেখিয়ে লিঙ্ক পাঠাত বা পিন কোড জেনে নিয়ে অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ খালি করে ফেলত।
বাগেরহাট জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আমাদের তদন্তকারী দল প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে চক্রটিকে শনাক্ত করে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা স্বীকার করেছে যে তারা গত কয়েক মাসে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রতারণার সাথে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশ প্রশাসন সাধারণ জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছে, বিকাশ, নগদ বা অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান কখনোই গ্রাহকের কাছে ফোন করে তাদের গোপনীয় পিন (PIN) বা ওটিপি (OTP) জানতে চায় না। কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে পিন কোড না দেওয়া এবং কোনো সন্দেহজনক কল পেলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা সংশ্লিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।