সুবর্ণ বিশ্বাস,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পিস্তলসদৃশ বস্তু নিয়ে এক যুবকের আকস্মিক দাপট ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় উৎসুক ও ক্ষুব্ধ জনতা সাহস করে ওই যুবককে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে আটক করে। পরে তাকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, যুবকের হাতে থাকা পিস্তলটি কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়, বরং দেখতে অবিকল আসল পিস্তলের মতো একটি খেলনা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাধারণ দিনের মতোই হাসপাতাল এলাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের ভিড় ছিল। এমন সময় ওই যুবক হঠাৎ করেই কোমরে ও হাতে পিস্তলসদৃশ বস্তু প্রদর্শন করে ঘোরাফেরা শুরু করে। সেখানে উপস্থিত রোগী, স্বজন ও পথচারীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দিয়ে দাপট দেখাতে থাকে সে। প্রকাশ্য দিবালোকে জনাকীর্ণ একটি হাসপাতালে অস্ত্রধারী যুবকের এমন অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক ব্যবহারে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ভয়ে দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন এবং আশপাশের দোকানপাটগুলোতে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দেয়।
যুবকের আচরণে সন্দেহ বাড়লে এবং বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কায় স্থানীয় জনতা নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে একত্রিত হয়। একপর্যায়ে কৌশল অবলম্বন করে সবাই মিলে ওই যুবককে ধরে ফেলে এবং গণধোলাই দেয়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে যুবককে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় পুলিশ তার কাছ থেকে পিস্তলসদৃশ বস্তুটি জব্দ করে। পরবর্তীতে থানা হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এটি একটি প্ল্যাস্টিক ও ধাতু দিয়ে তৈরি অবিকল আসল পিস্তলের আকৃতির খেলনা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতাল একটি সংবেদনশীল জায়গা। এখানে মুমূর্ষু রোগী ও তাদের স্বজনেরা মানসিক চাপে থাকেন। তার ওপর খেলনা হলেও এভাবে অস্ত্র দেখিয়ে ভীতি সৃষ্টি করা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অপরাধমূলক কাজ। এর পেছনে অন্য কোনো অশুভ উদ্দেশ্য বা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জব্দকৃত বস্তুটি খেলনা পিস্তল হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। তবে জনসম্মুখে খেলনা অস্ত্র দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা, সাধারণ মানুষকে হুমকিতে ফেলা এবং শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট যুবকের বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গ ও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করার অপরাধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।