নওগাঁ প্রতিনিধি: মোঃ রিমন আহমেদ
নওগাঁ সদর উপজেলার তিলেকপুর ইউনিয়নের মঙ্গলপুর গ্রামে বসতবাড়ির পাশ দিয়ে পানির নালা নির্মাণকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে একটি পরিবারের বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। এতে একটি ঐতিহ্যবাহী মাটির দোতলা বাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় বাড়িটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলপুর গ্রামের প্রবাসী সুমি বেগম তাঁর ক্রয়কৃত জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিবেশী মাহবুব ও মোজাম্মেল ওই মাটির বাড়ির একেবারে ঘেঁষে পানির নালা (ড্রেন) নির্মাণ করে সেখানে পানি প্রবাহিত করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মাটির ঘরের দেয়াল ও ভিতের পাশ দিয়ে নিয়মিত পানি প্রবাহিত হওয়ায় ঘরের নিচের মাটি নরম হয়ে যাচ্ছে। এতে বাড়িটির ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী মাটির দোতলা বাড়িটি যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ভুক্তভোগী সুমি বেগম বলেন, “আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। এই সুযোগে মাহবুব ও মোজাম্মেল আমাদের মাটির ঘরের পাশ দিয়ে পানির নালা তৈরি করেছেন। পানি জমে ঘরের মাটির ভিত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাড়িটি ভেঙে পড়লে আমরা গৃহহীন হয়ে পড়ব। এছাড়া বাঁশের বেড়া দিয়ে আমাদের ও প্রতিবেশীদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমার ক্রয়কৃত অন্য একটি জমির ওপর দিয়েও জোরপূর্বক পানির পাইপ বসানো হয়েছে। এতে আমরা নানা সমস্যার মধ্যে পড়েছি। বাধা দিতে গেলে ভয়ভীতি দেখানো হয়। আমি প্রশাসনের কাছে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার দাবি করছি।”
তিলেকপুর ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। মোজাম্মেলসহ সংশ্লিষ্টরা বৈঠকে সমাধানে সম্মত হলেও পরে মোবাইল ফোনে তারা ওই সমাধানে রাজি নন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মাহবুব ও মোজাম্মেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে, বসতবাড়ির এত কাছে পানির নালা নির্মাণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িটি রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।