মোঃ আব্দুস সামাদ প্রামানিকের জীবন যুদ্ধে লক্ষ্যের সন্ধান।
গুরুদাসপুর, নাটোর প্রতিনিধিঃ আসিফ ইকবাল আসিফ
মোঃ আব্দুস সামাদ প্রামানিক (৬৫+), নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বামন কোলা গ্রামের এক সময়ের স্বনামধন্য ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর বামন কোলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সুন্নী মুসলিম পরিবারের এই সদস্যটি জন্মলগ্ন থেকেই দুঃখ আর কষ্টের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলেছেন। শৈশবে মাতৃবিয়োগ, সৎ মায়ের অত্যাচার, ছোট ভাইদের মানুষ করার জন্য নিজের পড়ালেখা ত্যাগ—সবই ছিল তার জীবনের প্রারম্ভিক অধ্যায়। জীবনে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন করা সত্ত্বেও, নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ তার পরিবার গভীর অর্থনৈতিক সংকট ও শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে যুঝছে।
পারিবারিক দুর্যোগ ও আর্থিক বিপর্যয়
জীবনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে একসময় জমি-জমা ক্রয় করে ভালো অর্থনৈতিক অবস্থার সৃষ্টি করেছিলেন আব্দুস সামাদ। কিন্তু তার স্বপ্নের পতন শুরু হয় বড় ছেলে মাসুদ রানা-কে কেন্দ্র করে। ব্যবসায় সহজ-সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারিত হওয়ায় আব্দুস সামাদের পুরো পরিবারকে দেউলিয়া হতে হয়। এই ক্ষতির জেরে তাকে নাটোর সদরের বাড়ি বিক্রি করে দিতে হয়।
দুর্ভাগ্য এখানেই থামেনি। বড় ছেলে মাসুদ রানা সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পা পুংজ্ঞু (প্রতিবন্ধী) হয়ে যান। এই খবর শুনে মাসুদ রানার শিশুকন্যা স্ট্রোক করে। প্রিয় সন্তানের এমন করুণ দশা আর নাতনীর অসুস্থতা দেখতে দেখতেই তার জীবনসঙ্গী মেহেরুন্নেসা ২০২০ সালে স্ট্রোক করে ইন্তেকাল করেন।
আইনি জটিলতা ও সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কা
বর্তমানে আব্দুস সামাদ প্রামানিকের দুর্দিন আরও গভীর হয়েছে। বড় ছেলের নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুরের বাড়িটি প্রতারক নজরুল ইসলামের প্রতারণায় পড়ে এখন ব্যাংকের দখলে। অন্যদিকে, তার গ্রামের মশিন্দা শিকারপাড়া মাঠের জমি এখন ভূমিদস্যু সোহরাব মন্ডল গংদের দখলে। উভয় জমি নিয়েই বর্তমানে আদালতে মামলা চলমান।
এদিকে, তার মেজ ছেলে মুকুল হোসেন একজন হার্টের রোগী এবং তার অর্থনৈতিক অবস্থাও শূন্যের কোঠায়। অন্যান্য সন্তানদের অবস্থাও সঙ্গিন। বড় ছেলের ঘরের অসুস্থ নাতী-নাতনী এবং অন্যান্য সন্তানদের দুর্দশা প্রবীণ এই মানুষটির মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
অবিচল আস্থা ও আত্মনিবেদন
৬৫ ঊর্ধ এই প্রবীণ মানুষটির জীবনে শান্তি অধরা রয়ে গেলেও তিনি এখনো উদ্দামী। জীবনসঙ্গীবিহীন এই বয়সেও তিনি নিজেকে নিয়ে এতটুকু ভাবেন না। তার সমস্ত চিন্তা-ভাবনা জুড়ে রয়েছে কেবল সন্তান-সন্ততি ও অসুস্থ নাতী-নাতনীদের কল্যাণ। তার সেই পুরোনো শক্তি বা সামর্থ্য কোনটাই অবশিষ্ট নেই, তবুও তিনি আল্লাহ ভরসা।
বিশ্ব জাকের মঞ্জিল আটরশি দরবারের মুরিদ আব্দুস সামাদ প্রামানিক এখনো দৃঢ় বিশ্বাস রাখেন, মহান রবের কৃপায় একদিন তার জীবনের এই কষ্টের অবসান হবে। নিজের সর্বস্ব দিয়ে তিনি যে বিশাল পরিবারকে বড় করে তুলেছেন, সেই পরিবারের সুদিন দেখতেই আজো তিনি দিন-রাত মহান রবের কাছে প্রার্থনা করেন।