মোঃ নাঈম উদ্দীন
জীবননগর উপজেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসহ এক চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। আজ রবিবার (১৪ জুন) সকালে জীবননগর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। আটককৃত ব্যক্তির কাছ থেকে ৪টি পূর্ণাঙ্গ স্বর্ণের বার এবং ৪টি বিশেষ টুকরা স্বর্ণ উদ্ধার করতে সক্ষম হন বিজিবি সদস্যরা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীনে থাকা জীবননগরের মেদিনীপুর বিওপি ক্যাম্পে কর্মরত বিজিবি সদস্যরা নিয়মিত সীমান্ত এলাকায় টহল দিচ্ছিলেন। এমন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে, মেদিনীপুর সীমান্ত দিয়ে একটি বড় ধরনের স্বর্ণের চালান অবৈধভাবে সীমান্ত পার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
খবরের সত্য বিজিবির টহল দল অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে মেদিনীপুর সীমান্তের ৬৪ নম্বর সীমান্ত পিলারের আনুমানিক ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বিজিবি। চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রম করার প্রাক্কালে বিজিবি সদস্যরা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে মো. সিকান্দার আলী (৫০) নামের ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেন। পরবর্তীতে তার দেহ তল্লাশি করে ৪টি স্বর্ণের বার এবং ৪ টুকরা স্বর্ণ জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মো. সিকান্দার আলী (৫০)। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বাবার নাম কাসেদ আলী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের সীমান্ত চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বর্ণ চোরাচালান রোধে বিজিবির এই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষায় এবং সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ পাচার ও চোরাচালান বন্ধে তাদের এই কঠোর নজরদারি ও জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।
জব্দকৃত স্বর্ণের বার ও টুকরাগুলো আইনি প্রক্রিয়া মেনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে চোরাচালান বিরোধী আইনে মামলা দায়েরের পর তাকে জীবননগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তুতি চলছে।