নিজস্ব প্রতিবেদক:-
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি এবং নন্দিত চিত্রনায়িকা মৌসুমীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তথাকথিত একটি অশ্লীল ভিডিওকে জড়িয়ে ছড়ানো এই গুজবকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্রাঙ্গনে তীব্র ক্ষোভ এবং নিন্দা তৈরি হয়েছে। এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক রবিউল ইসলাম রাজ।
ভিত্তিহীন গুজব এবং তার প্রভাব
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত একটি সংবাদের বিভ্রান্তিকর ছবি (চিত্র ০) ভাইরাল হতে দেখা গেছে। ছবির টেক্সটটি একটি কুরুচিপূর্ণ দাবি করে এবং ফেসবুক-ইউটিউবে ‘তোলপাড়’ সৃষ্টি করছে বলে দাবি করে, যা পুরোপুরি মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। এই ধরনের বানোয়াট তথ্য জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমীর দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং সামাজিক অবস্থানে কালিমা লেপন করার এক অশুভ প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিচালক রবিউল ইসলাম রাজের প্রতিবাদ
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে পরিচালক রবিউল ইসলাম রাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এই ধরনের অপপ্রচারকে ‘বড় ধরনের সাইবার অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে লিখেছেন, “বাংলা চলচ্চিত্রের সুপারস্টার নায়িকা মৌসুমীকে নিয়ে এই রকম একটি মিথ্যা নিউজ ছড়ানো – বড় ধরনের অপরাধ বলে আমি মনে করি। কোন কিছুর সত্যতা যাচাই না করে এই রকম যারা নিউজ করছেন – তারাও এক ধরনের বড় ধরনের অপরাধ করছেন।”
তিনি আরও বলেন, “কারন নায়িকা মৌসুমী ১৯৯৩ সাল হইতে আজ পর্যন্ত চলচ্চিত্রে রয়েছেন # তিনি সন্মানের সহিত কাজ করে আসছেন। তার কোন ব্যাট রিপোর্ট আজ পর্যন্ত কেউ বলতে পারবে না।” রবিউল ইসলাম রাজ সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহারকারীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান এবং যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তা যাচাই করার অনুরোধ করেন।
মৌসুমীর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার এবং ভক্তদের সমর্থন
মৌসুমী ১৯৯৩ সাল থেকে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণ করার পর থেকেই তার অভিনয় এবং ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে দর্শকদের মনে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সহ অসংখ্য স্বীকৃতি লাভ করেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি কোনো বড় বিতর্কের সাথে জড়িয়ে যাননি। তার বর্ণাঢ্য এবং ক্লিন ক্যারিয়ারের কারণেই ভক্ত এবং চলচ্চিত্রবোদ্ধারা এই গুজবটিকে ‘বানোয়াট’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে করছেন।
মৌসুমীর অসংখ্য ভক্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তারা অভিনেত্রী এবং তার দীর্ঘদিনের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এই ধরনের সাইবার বুলিংয়ের নিন্দা করছেন। ভক্তদের অভিমত, এই অপপ্রচার সফল হবে না।
আইনি সতর্কতা ও অনুরোধ
বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি আইন অনুযায়ী, যাচাইহীন, মিথ্যা এবং মানহানিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আইনি বিশেষজ্ঞরা যেকোনো গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। নাগরিক সমাজ মনে করছে, সুস্থ বিনোদন এবং নিরাপদ সাইবার স্পেস বজায় রাখতে এই ধরনের অশুভ চর্চাকে রুখে দিতে হবে।
চিত্রনায়িকা মৌসুমীর মতো একজন গুণী শিল্পীর সম্মান রক্ষায় প্রকৃত ভক্ত, গণমাধ্যম এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষ সবসময়ই অন্যায়ের বিপক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে আশা করা যায়।