আজিজুর ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার | রাজশাহী
গোদাগাড়ীর সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসাস্থল ‘৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল’। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নিজেই যেন অসুস্থ। জনবল সংকট আর অ্যাম্বুলেন্সের হাহাকারে হাসপাতালটির সেবার চাকা এখন প্রায় স্থবির। জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে আসা মুমূর্ষু রোগীরা এখানে এসে আরও অসহায় বোধ করছেন।
অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় থমকে আছে জীবন
হাসপাতালটিতে একসময় দ্রুত রোগী স্থানান্তরের একমাত্র মাধ্যম ছিল সরকারি অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু ৩ মার্চ, ২০২৫ তারিখে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চালক নিহত হওয়ার পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সটিও দুমড়েমুচড়ে অকেজো হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মেলেনি কোনো বিকল্প ব্যবস্থা।
উপায়হীন রোগীরা এখন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে গুনতে হচ্ছে আকাশচুম্বী ভাড়া। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের জন্য এই বাড়তি খরচ এখন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিচ্ছন্নতাহীন হাসপাতাল: সেবার বদলে রোগ ছড়ানোর শঙ্কা
হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবার চেয়েও বড় সংকট এখন এর পরিবেশ। ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ চতুর্থ শ্রেণির পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। বিশেষ করে, ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সবকটি পদই শূন্য। গত ১ জুন আউটসোর্সিংয়ে থাকা কর্মীদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালী ও রাঁধুনির সব পদ এবং আয়া ও নিরাপত্তা প্রহরীর অধিকাংশ পদ ফাঁকা পড়ে আছে। এই নাজুক পরিস্থিতিতে হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে।
তবুও টিকে থাকার লড়াই
সব প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই প্রতিদিন শত শত রোগী বহির্বিভাগে সেবা নিচ্ছেন। হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সৈয়দ মোঃ সুমন ইতিমধ্যে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জন বরাবর জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন।
জনবল নিয়োগ ও নতুন অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দের মাধ্যমে হাসপাতালটি ফের প্রাণ ফিরে পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপই এখন একমাত্র সমাধান