তথ্য সংগ্রহেঃ- মোঃ মাসুদ রানা সুমন
ছবিটি শুধুমাত্র বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে
কুরআন ও হাদিসের আলোকে
পবিত্র দ্বীনের লেবাস পরে যারা নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কুরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা করেন, ইসলামের দৃষ্টিতে তাদের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। শেষ জামানায় এমন আলেমদের আবির্ভাব নিয়ে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে কঠোরভাবে সতর্ক করে গেছেন। নিচে কুরআন ও হাদিসের আলোকে তাদের প্রকৃত স্বরূপ এবং পরকালের পরিণতি তুলে ধরা হলো:
১. পবিত্র কুরআনের দৃষ্টিতে দুনিয়ালোভী ও বিকৃতকারী আলেমগণ
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে এমন আলেমদের কঠোর ভাষায় তিরস্কার করেছেন, যারা সত্যকে লুকিয়ে রেখে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেন।
পার্থিব লাভের বিনিময়ে আল্লাহর বিধান বিক্রি করা:
কুরআনে এরশাদ হয়েছে—
“আর আল্লাহ কিতাবপ্রাপ্তদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন যে, ‘তোমরা তা মানুষের কাছে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে এবং তা গোপন করবে না।’ কিন্তু তারা তা তাদের পেছনের দিকে ছুড়ে ফেলল এবং তার বিনিময়ে অল্প মূল্য গ্রহণ করল। সুতরাং তাদের এই ক্রয় কতই না মন্দ!” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৮৭)
অবৈধ উপায়ে সম্পদ ভক্ষণ:
আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন—
“হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই পন্ডিত ও ঋষিদের একটি বড় অংশ অবৈধ উপায়ে মানুষের ধন-সম্পদ ভোগ করে এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেয়।” (সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৩৪)
এখানে মূলত তাদের বোঝানো হয়েছে, যারা ধর্মীয় পদের অপব্যবহার করে মানুষের সম্পদ গ্রাস করে এবং মানুষকে সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে।
২. হাদিসের আলোকে শেষ জামানার ফেতনাবাজ আলেম
রাসূলুল্লাহ (সা.) ভবিষ্যৎবাণী করে গেছেন যে, শেষ জামানায় একশ্রেণির আলেম তৈরি হবে যাদের বাহ্যিক রূপ হবে ধার্মিকদের মতো, কিন্তু ভেতরটা হবে সম্পূর্ণ দুনিয়াপূজারী।
দাজ্জালের চেয়েও বড় ভয়ের কারণ:
হযরত আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন—
“দাজ্জাল ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে আমি আমার উম্মতের ওপর যত না ভয় করি, তার চেয়ে অনেক বেশি ভয় করি পথভ্রষ্ট ও কুপ্রবৃত্তির অনুসারী আলেমদের নিয়ে।” (মুসনাদে আহমাদ)
জান্নাতের সুবাস থেকেও বঞ্চিত হওয়া:
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“যে ব্যক্তি এমন জ্ঞান অর্জন করে যা দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা হয়, কিন্তু সে তা কেবল পার্থিব কোনো ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে অর্জন করে, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুবাসও পাবে না।” (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৫২)
৩. কিয়ামতের ময়দানে তাদের শাস্তি ও জাহান্নামে স্থান
যাঁরা জেনেশুনে দ্বীনের ভুল ব্যাখ্যা দেন এবং মানুষকে ধোঁকা দিয়ে নিজেদের আখের গোছান, পরকালে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে মর্মান্তিক শাস্তি।
জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে:
কুরআনের বর্ণনামতে, যারা দ্বীনকে পুঁজি করে সম্পদ জমা করে এবং তা সঠিক পথে ব্যয় করে না, কিয়ামতের দিন সেই সঞ্চিত সম্পদ দিয়েই তাদের শাস্তি দেওয়া হবে:
“সেদিনের কথা স্মরণ করুন, যখন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের কপালে, পার্শ্বদেশে ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। (বলা হবে), ‘এটিই তা যা তোমরা নিজেদের জন্য জমা করেছিলে, সুতরাং এখন তোমাদের সঞ্চিত সম্পদের স্বাদ আস্বাদন কর!’” (সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৩৫)
জাহান্নামে করুণ পরিণতি:
হাদিসে এসেছে, কিছু ওয়াজকারী ও আলেমকে জাহান্নামে এমনভাবে শাস্তি দেওয়া হবে যে তাদের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে আসবে এবং তারা গাধার ঘানির মতো ঘুরতে থাকবে। জাহান্নামের অন্যবাসীরা তাদের দেখে অবাক হয়ে বলবে, “হে অমুক! তুমি তো দুনিয়াতে আমাদের ভালো কাজের আদেশ দিতে, আজ তোমার এই দশা কেন?” তখন তারা আফসোস করে বলবে, “আমরা মুখে বলতাম ঠিকই, কিন্তু নিজেরা সে অনুযায়ী চলতাম না এবং মানুষকে ধোঁকা দিতাম।”
সারসংক্ষেপ:
লেবাসধারী আলেম ও স্বার্থান্বেষী ধর্ম ব্যবসায়ীরা ব্যক্তিগত বা দলীয় ফায়দার জন্য পবিত্র কুরআন ও হাদিসের মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে উম্মতকে বিভ্রান্ত করে। পরকালে তাদের স্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন ও সবচেয়ে কঠিন স্তর। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হক বা সত্য চেনার এবং এ ধরনের ফেতনাবাজদের প্ররোচনা থেকে নিরাপদ থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।