সুবর্ণ বিশ্বাস,
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
সীমান্তে মাদকের ভয়াল থাবা রোধ ও চোরাচালান বন্ধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৮ বিজিবি)-এর কঠোর নজরদারির মুখে পণ্ড হয়ে গেছে ভারতীয় অবৈধ ও বিপজ্জনক মাদকের একটি চালান। ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ২০ বোতল ভারতীয় নিষিদ্ধ মাদক ‘উইনক্রেক্স’ (Wincrex) সিরাপ জব্দ করেছে বিজিবি। তবে বিজিবি জোয়ানদের উপস্থিতি টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে কন্টেইনার ফেলে অন্ধকারের সুযোগে সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় চোরাকারবারিরা।
যেভাবে পরিচালিত হয় অভিযান
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদ ও নিয়মিত সীমান্ত পাহারা জোরদারের অংশ হিসেবে ৫৮ বিজিবির অধীনস্থ উথলী বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) ক্যাম্পের একটি চৌকস ও বিশেষ টহল দল সীমান্ত এলাকায় তল্লাশি ও আড় পাতার কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে সীমান্ত সংলগ্ন নির্জন ও কৌশলগত একটি পয়েন্টে সন্দেহভাজন কয়েকজন ব্যক্তিকে তল্লাশি চালাতে গেলে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে যায় তারা। ধাওয়া খেয়ে সাথে থাকা অবৈধ কন্টেইনার ও প্যাকেট ফেলে রেখে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয় চোরাচালানকারী চক্রের সদস্যরা।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে রক্ষিত ২০ বোতল ভারতীয় ক্ষতিকারক ‘Wincrex’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদক ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা
‘উইনক্রেক্স’ (Wincrex) মূলত কোডিনযুক্ত একধরনের মারাত্মক ভারতীয় সিরাপ, যা ফেনসিডিলের বিকল্প হিসেবে তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে অবৈধ সীমান্তপথে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। জব্দকৃত মাদক দ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী উথলী বিওপি কর্তৃক জিডি ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হবে বলে জানা গেছে।
‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিজিবি
অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে ৫৮ বিজিবির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে যেকোনো ধরনের মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে বিজিবি কঠোর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করছে। তরুণ ও যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ ধরনের আকস্মিক ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার ও অব্যাহত থাকবে।