মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। পাবনা (ঈশ্বরদী) প্রতিনিধিঃ
ঈশ্বরদীতে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কৃষক মো. শামীম হোসেনের তিনটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরে থাকা নগদ প্রায় এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র ও কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের খারজানী গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই রাতে শামীম হোসেনের গোয়ালঘর থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশের আরও দুটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং তিনটি ঘরই সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। তবে সৌভাগ্যবশত, গোয়ালঘরে থাকা গরুগুলো দড়ি ছিঁড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারায় বড় ধরনের প্রাণহানি বা গবাদিপশুর ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শামীম হোসেন জানান, আসন্ন সবজি চাষ ও কৃষিকাজের খরচ মেটানোর জন্য তিনি কষ্টের জমানো প্রায় এক লাখ টাকা ঘরে রেখেছিলেন। আগুনে সেই টাকা ছাড়াও সমস্ত স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, পোশাক এবং জরুরি মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর স্বর্ণালংকারের কোনো অবশিষ্ট অংশও পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে তাঁর প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এদিকে খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে রূপপুর মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে পারেনি; কর্মীরা হেঁটে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কথা বলা হলেও, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ধারণা গোয়ালঘরে জ্বালানো কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
এদিকে মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির বাড়িতে যান, খোঁজখবর নেন এবং সমবেদনা জানান। পাশাপাশি পরিবারের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য চালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।
হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় বসতঘর ও কষ্টার্জিত সঞ্চয় হারিয়ে শামীম হোসেনের পরিবার এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। পরিবারটিকে দ্রুত পুনর্বাসনে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও স্থানীয়দের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।