নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০আগস্ট ২০২৬
দেশজুড়ে সাংবাদিক নির্যাতন, হামলা, মামলা ও হয়রানির তীব্র নিন্দা এবং গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরাম’। অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলনের হুংকার দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ফোরামের সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ আজ এক প্রকার রক্তাক্ত ও সংকটাপন্ন। রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সাংবাদিক সমাজ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসলেও আজ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কলমযোদ্ধারা প্রতিনিয়ত লাঞ্ছিত হচ্ছেন। সম্প্রতি গাজীপুরেও এক সহকর্মীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকার সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রে আইন রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ এ ধরনের ঘটনায় প্রায়ই নীরব ভূমিকা পালন করে, যার ফলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।
সরকারের কাছে তিন দফা দাবি
সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে তিন দফা দাবি জানানো হয়েছে—
১. সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর সকল প্রকার হামলা, মামলা ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দ্রুত ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা বিধান করতে হবে।
কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সংলাপ ও আইনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে বিশ্বাসী উল্লেখ করে সংগঠনের সভাপতি বলেন, এই নিপীড়ন অব্যাহত থাকলে দেশের সকল সাংবাদিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে ঐক্য ফোরাম। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ মানে পুরো জাতির ওপর অন্ধকার ডেকে আনা উল্লেখ করে তিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে সকল সাংবাদিককে এক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
”কলমের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দু দেব”—এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে বিবৃতিটি শেষ করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক লেখক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোঃ কুতুব উদ্দিন।