নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের রাজনীতিতে শিক্ষিত ও পেশাদার নারীদের অংশগ্রহণ যখন একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করছে, ঠিক তখনই এক শ্রেণির কুচক্রী মহলের নোংরা সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন সদ্য শপথ নেয়া সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ। একজন মেধাবী প্রকৌশলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে মারদিয়া মমতাজ যখন যুক্তির মাধ্যমে টকশো বা জনসভায় নিজের শক্ত অবস্থান তুলে ধরছেন, তখন তাকে বৌদ্ধিক লড়াইয়ে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে একটি পক্ষ বেছে নিয়েছে বডি শেমিং ও ব্যক্তিগত হ্যারাজমেন্টের পথ। এমনকি কিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যমও এই নোংরা শব্দগুলোকে প্রমোট করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মূলত স্বার্থান্বেষী মহলের তল্পিবাহক কিছু অনুষ্ঠান বর্জন করার পর থেকেই এই পরিকল্পিত চরিত্র হননের মাত্রা তীব্রতর হয়েছে।
এই আক্রমণ কেবল একজন সংসদ সদস্যের ওপর নয়, বরং একজন মা এবং একজন পেশাজীবী নারীর মর্যাদার ওপর আঘাত, যা তার পরিবার ও সন্তানদের মনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রাজনৈতিক শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে যেখানে আদর্শিক ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়, সেখানে একজন নারী এমপির প্রতি এই ধরনের অশালীন আচরণ দেশের মনুষ্যত্ব ও নারী নিরাপত্তার দৈন্যদশাকেই ফুটিয়ে তোলে। মাহমুদা মিতু, জুমা বা মোনামী ম্যামের পর মারদিয়া মমতাজের মতো উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্বদের ওপর এই ধারাবাহিক সাইবার সন্ত্রাস প্রমাণ করে যে, মেধার লড়াইয়ে পরাজিতরাই কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত।
তবে ইতিহাস সাক্ষী দেয়, আদর্শিক সংগ্রামকে কখনো অশালীনতা বা কুৎসা রটিয়ে দমানো যায়নি। মারদিয়া মমতাজসহ প্রতিটি নারী জনপ্রতিনিধিকে মেধা ও যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করার সৎ সাহস রাখা উচিত, নতুবা এই বিষাক্ত সংস্কৃতি একদিন পুরো সমাজকেই গ্রাস করবে। একজন জনপ্রতিনিধির সামাজিক সম্মান রক্ষায় এবং ডিজিটাল সন্ত্রাস বন্ধে রাষ্ট্রের কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। মেধা ও যুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই হোক আগামীর অঙ্গীকার।