বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, টেকনাফ, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক সাংবাদিকের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাহারছড়া ইউনিয়নের শিলখালী মৌজার ৩২৫ নম্বর খতিয়ানের ৩৩ নম্বর দাগে ২০ শতক জমি প্রায় ৩১ বছর আগে হাজি ইন্না আমীনের ছেলে আজিজুল ইসলামের কাছ থেকে নগদ টাকায় ক্রয় করেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের দাদি। পরবর্তীতে তাঁর মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের কাছ থেকে ওই জমি ক্রয় করেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন। জমিটির সৃজিত খতিয়ান নম্বর ২৫-৫৫-২৮ বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উত্তর পাশে অবস্থিত ওই জমির বর্তমান বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় পুলিশ ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলাম, তাঁর ভাই ও চাচাতো ভাইয়েরা মিলে প্রায় ১৩ শতক জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। তবে জমির মালিকানা, দখল এবং জোরপূর্বক দখলের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা ও উভয় পক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় গত ১৭ জুন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইন্সপেক্টর নজরুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে মোট আটজনের বিরুদ্ধে সিআর মামলা দায়ের করেন সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন।
সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি মামলার সাক্ষীদের ডেকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মামলা ও হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দখল হয়ে যাওয়া জমি পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিক সমাজ ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও তাঁর স্বজনদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।