মনিরুজ্জামান মিলন পাটোয়ারী, জলঢাকা
নীলফামারীর জলঢাকায় পিআর পদ্ধতি বাস্তবায়নসহ পাঁচ দফা দাবির পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা শাখা। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ৩, টায় জলঢাকা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে সমবেত হতে থাকেন। পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলোতে তাদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ। দাবির প্রতি সংহতি জানাতে ছাত্র-যুবক থেকে শুরু করে প্রবীণ নেতাকর্মীরাও যোগ দেন এই কর্মসূচিতে। বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোখলেছুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন , বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জলঢাকা উপজেলার সেক্রেটারি, মোয়াম্মার আল হাসান,প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের মজলিশে শুরা সদস্য এবং জলঢাকা আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুল্লাহ্ সালাফি। জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি প্রভাষক মনিরুজ্জামান জুয়েল, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য প্রভাষক সাদের হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমীর ও জলঢাকা প্রেসক্লাবের সভাপতি,আলহাজ্ব কামারুজ্জামান, খুটামারা ইউনিয়ন জামায়াত মনোনীত চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ,রকিবুল ইসলাম জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি তাজমুল হাসান সাগর, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক মোজাহিদ মাসুম, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক ওমর ফারুক, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি বুলবুল আহমেদ, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি অপিয়ার রহমান ও সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান রাসেদ প্রমুখ। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওঃ ওবায়দুল্লাহ সালাফি বলেন, যদি জাতীয় নির্বাচন পিয়ার পদ্ধতিতে চালু করা হয়, তবে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে,সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে এবং কোনো সরকার আর ফ্যাসিস্ট কায়দায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। আমাদের পাঁচ দফা পুরন হলে দেশে আর দূর্নীতি ও অনিয়ম মুক্ত একটি রাষ্ট্রে হবে। প্রধান অতিথি অধ্যাপক মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম বজ্রকণ্ঠে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন ১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ২. জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করতে হবে।
৩. অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ৪. বর্তমান সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ৫. স্বৈরাচারের সহযোগী জাতীয় পার্টি ও চৌদ্দ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগমে নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মাঠ প্রাঙ্গণ ছিলো উৎসবমুখর। বিভিন্ন শ্লোগান ও ব্যানার-প্ল্যাকার্ডে সমাবেশের দাবিগুলো স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। বক্তারা সবাই একসুরে বলেন,এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের উপদেষ্টা ড. ইউনুসের প্রতি জোর আহ্বান জানান দাবিগুলো পূরণ না হলে জনগণের আন্দোলন আরও বেগবান হবে।