মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ফলিয়া দিগর বাজারে দোকানঘর ভাঙচুর, মালামাল নষ্ট ও জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক মোজাম্মেল হক সরকার (৭৯) সাঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
থানার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে একই গ্রামের একাধিক ব্যক্তি ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার মালিকানাধীন দোকানঘরের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় তারা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
দোকানের ভাড়াটিয়া আব্দুল বাকী, মোস্তাফিজুর রহমান সাঈদী ও শ্রী দিপক চন্দ্র তাদের এ আচরণের প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা দোকানঘরের টিনশেড ও শাটার ভাঙচুর করেন।
এসময় আব্দুল বাকীর সেলুনের মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ২৫ হাজার টাকা, মোস্তাফিজুর রহমান সাঈদীর ভেটেরিনারি ফার্মেসির মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং শ্রী দিপক চন্দ্রের হেয়ার কাটিং সেলুনের মালামাল ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়। এছাড়া দোকানঘরের অবকাঠামোগত ক্ষতিসহ মোট প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে ভাড়াটিয়াদের রক্ষা করলেও অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে দোকানঘরগুলো জোরপূর্বক তালাবদ্ধ করে চলে যায়। পরে সংবাদ পেয়ে মোজাম্মেল হক সরকার ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি জানতে পারে।
এব্যাপারে অভিযুক্ত লিটনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, মোজাম্মেল হক সরকারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিবাদ চলে আসছিল। বিষয়টি কয়েকদফা থানায় বসে ও এলাকায় বসে মিমাংসিত হয়। মিমাংসার পর বিরোধীয় জমি মেপে দেখা যায় মোজাম্মেলের জায়গায় আমার ঘর আবার আমার জায়গায় তাঁর ঘর পড়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় নিজ নিজ খরচে যার ঘর সে সরে নিবে। বিচারকদের কথামত আমি আমার ঘর তার জায়গা থেকে ৬ মাস আগে সরে নেই। কিন্তুু মোজাম্মেল আমার জায়গা থেকে তাঁর ঘর সরায় না।
সেলুনঘর ভাংচুর ও ভেটেনারি দোকান ভাংচুর বিষয়ে বলেন, আমরা যদি কারো দোকান ঘর ক্ষতি করে থাকি তাহলে তারা এখনো আছে। তাদের থেকে শোনেন। তারা যদি বলে তাদের ব্যবসার ক্ষতি করেছি দোকান ঘর ভাংচুর করেছি তাহলে যে শাস্তি হয় মাথা পেতে নিব। আমরা আমাদের জায়গায় দোকানঘর তুলেছি।
এ বিষয়ে সাঘাটা থানা পুলিশ অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।