ঢাকা   ১৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ । ১লা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
৫০ বছরের খেদমত শেষে বিদায় নিলেন মুয়াজ্জিন রমজান আলী, সম্মাননায় সিক্ত ১০ বছরের ছোট্ট হাফেজ আব্দুর রহমানের হৃদস্পন্দন কি থেমে যাবে? আপনার একটি মানবিক হাতই পারে তাকে নতুন জীবন দিতে সাঘাটার ফলিয়া দিগর বাজারে দোকান ঘর ভাঙচুর ও দখল চেষ্টার অভিযোগ ক্যান্সার রোগে মৃত বুলবুল আহম্মেদের পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করলো ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন। ছাতকে অটোরিকশার ধাক্কায় স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত, পা-ভেঙে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে সেলিম মাহবুবঃ কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি এ্যাড:হান্নান শাহ্ এর পক্ষ থেকে ভূল্লী উপজেলা ছাত্র দলের সহায়তা প্রদান। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসির অভিযানে ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার চুয়াডাঙ্গায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত টিন কেটে ঘরে প্রবেশ, তারপর ধর্ষণ! নোয়াখালীতে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ডিজি বদলি ও বোরি’র অস্থিরতা: প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি

okmedia56@gmail.com
  • প্রকাশিত : রবিবার, জুন ১৪, ২০২৬
  • 15 শেয়ার

প্রিয়া চৌধুরী

 

​বাংলাদেশ ওশানোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বোরি) দেশের নীল অর্থনীতি ও সামুদ্রিক গবেষণার একটি অপরিহার্য স্তম্ভ হলেও প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে তার মূল লক্ষ্যের চেয়ে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক বিতর্ক ও অস্থিরতার কারণেই বেশি আলোচনায় রয়েছে। বঙ্গোপসাগরের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক কমোডর মো. মিনারুল হককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তটিকে অনেকেই প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের অস্থিরতা অবসানের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছিলেন। তবে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, শীর্ষ পর্যায়ে এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের পরও প্রতিষ্ঠানটির ভেতরকার অস্বস্তি পুরোপুরি কাটেনি; বরং নতুন করে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পাল্লা ভারী হচ্ছে, যা বোরি’র মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি বড় অংশের মতে, মহাপরিচালকের বদলি কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মাত্র। তাদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে বোরির প্রকল্প বাস্তবায়ন, ক্রয় কার্যক্রম এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সাথে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের প্রভাব এখনো দৃশ্যমান। ফলে প্রশাসনিক শীর্ষ পদে পরিবর্তন আসলেও কাজের পদ্ধতিতে পরিবর্তন না এলে দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত কয়েক মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোতে বোরির প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, তার একটি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
​প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো একটি নির্দিষ্ট প্রভাববলয়ের নিয়ন্ত্রণে ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রউফ তালুকদার এবং সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার জাকারিয়ার ভূমিকা নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তাদের দাবি, প্রকল্পগুলোর আর্থিক ও প্রশাসনিক কাঠামো কেন এবং কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, তা যাচাইয়ের জন্য একটি উচ্চতর পর্যায়ের অডিট বা নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
​এদিকে মহাপরিচালকের বদলির পর একটি মহল নতুন করে কয়েকজন বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলায় বিষয়টি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন, নতুন প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে কেন নতুন অভিযোগের স্রোত তৈরি হলো? অনেকের আশঙ্কা, দীর্ঘদিনের প্রকল্প ব্যয়, যানবাহন ব্যবহার, জ্বালানি খরচ এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নথিপত্র যদি নতুন নেতৃত্বের অধীনে পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়, তবে হয়তো অতীতের অনেক অনিয়ম সামনে চলে আসতে পারে। আর সেই দায় এড়াতে বা তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই কি নতুন করে ‘দোষী খোঁজার অভিযান’ শুরু হয়েছে? এই প্রশ্ন এখন বোরি’র করিডোরেই ঘুরপাক খাচ্ছে।
​সহকর্মীদের একাংশ মনে করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া ঢালাও অভিযোগ গবেষণার পরিবেশকে ব্যাহত করে। তারা মনে করেন, প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব বা মতপার্থক্যকে ব্যক্তিগত অভিযোগে রূপান্তর না করে বরং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বোরি’র কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। তাই এই সংকট উত্তরণে গত কয়েক বছরের প্রকল্প ব্যয়, টেন্ডার ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে একটি স্বাধীন অডিট পরিচালনা করা, জনবল কাঠামো অনুযায়ী খালি থাকা পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে গবেষণায় মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করাই এখন সময়ের দাবি।
​শেষ পর্যন্ত, বোরি’র বিতর্ক তখনই থামবে যখন জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। ব্যক্তি বিশেষের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ বড়—এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হলেই কেবল বোরি তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে পারবে এবং দেশের নীল অর্থনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪