আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহে জেলা পুলিশের সফল অভিযানে একের পর এক রহস্যজনক দুইটি হত্যাকাণ্ডের জট খুলে গেছে। সদর কোতোয়ালি মডেল থানার বিদ্যাগঞ্জ এলাকায় নদীতে ভাসমান অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার ও নগরীর বাইপাস এলাকায় মিশুক চালক হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ যে ক্লু-লেস চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল, সেটির রহস্য অবশেষে উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ।
ঘটনার দিন নদী থেকে উদ্ধার করা লাশের কোনো পরিচয় না থাকায় নিহত ব্যক্তি কে, কীভাবে মারা গেছে এবং কারা জড়িত—সবই ছিল রহস্যে ঘেরা। এ ঘটনায় এসআই জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার-এর নির্দেশনা ও সরাসরি তদারকিতে কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শিব্বিরুল ইসলাম তার দক্ষ টিম নিয়ে তদন্তে নামেন। আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং মাঠ পর্যায়ের গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় আসরাফ নামের এক ব্যক্তিকে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসরাফ স্বীকার করে যে পরিকল্পিতভাবে পেট কেটে হত্যার পর লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস এলাকায় এক মিশুক চালককে হত্যা করে গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনাও রহস্যমুক্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে মতিন (৪৫) নামের এক আসামিকে। সে স্বীকার করেছে—মিশুক চালককে হত্যা করে গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
যদিও ছিনতাই হওয়া মিশুক গাড়িটি এখনো উদ্ধার হয়নি, তবে পুলিশ জানিয়েছে—গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা গেছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেলা পুলিশ জানায়, দুটি ঘটনাই ছিল ‘ক্লু-লেস’ বা প্রাথমিকভাবে কোনো প্রমাণবিহীন। কিন্তু ধারাবাহিক তদন্ত, দলীয় সমন্বয় ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের সাম্প্রতিক এসব সফল অভিযান অপরাধ দমন ও জনআস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।