April 21, 2026, 11:10 am
শিরোনাম:
ওসমানীনগরে গোয়ালাবাজার-খাদিমপুর সড়ক পাকা কাজে অনিয়মের অভিযোগ চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন আ.লীগের আমলের এপিপি পেলেন বিএনপির নারী সংরক্ষিত আসন চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর ও কঠোর নিরাপত্তায় শুরু হলো এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্মৃতির ধুলোবালি স্মৃতিগন্ধা আঁচল টেকনাফে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৭ জন গ্রেফতার মায়ানমারে পাচারকালে নৌবাহিনীর অভিযানে বিপুল সিমেন্টসহ বোট আটক, গ্রেফতার ১১ সুনামগঞ্জে হানি ট্র্যাপ চক্রের নারীসহ দুই সদস্য আটক, ভিডিও উদ্ধার পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে: প্রধানমন্ত্রী
নোটিশ:
দৈনিক মুক্তি সমাচার ও ডিএমএস টিভি (DMS TV) ​”সত্যের সন্ধানে দৃষ্টি — ডি.এম.এস.” এবং ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন ​”মানবতার সেবায় রক্তদান, বাঁচবে অকাল প্রাণ” (একটি অরাজনৈতিক ও সম্পূর্ণ মানবিক সংগঠন) ​পরিচালনা পর্ষদ: ​ইঞ্জিনিয়ার- মোঃ আল-আমিন মোল্যা, সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সভাপতি ।।। ​মোঃ মাসুদ রানা সুমন, প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠাতা- সাধারণ সম্পাদক ।।। ​মোঃ আব্দুর রহিম সবুজ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা- সিনিয়র সহ সভাপতি ।।। কর্তৃপক্ষ’র নোটিশ ব্যতীত কোনো ধরনের লেনদেন করবেন না; যদি করেন- কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেনা । ​যোগাযোগের তথ্য ও লিঙ্কসমূহ: ​অনলাইন আবেদন ফরম: https://forms.gle/p9ZvVivX35GsaeoAA, ওয়েবসাইট ভিজিট করুন: www.muktisamachar.com, ​ই-মেইল: dailymuktisamachar@gmail.com, ​সরাসরি যোগাযোগ: (মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপ): (প্রকাশক)- ​📞 +৮৮০১৮২৮-৭৯২৭৫৫, (সম্পাদক)- 📞 +৮৮০ ৯৬৩৮-৭৫১৮১০, ​প্রধান কার্যালয়: ইস্টার্ন হাউজিং, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা- ১২১৬ ।।। ​যে-কোনো সংবাদ, বিজ্ঞাপন বা তথ্যের জন্য আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন ।৷ ​”দুই মাসেই সরকারের ওপর জনগণের আস্থা ফিরে এসেছে—প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।”

স্মৃতির ধুলোবালি

Reporter Name

স্মৃতির ধুলোবালি

​লেখক: এম আর সুমন

​ভূমিকা:মানুষের জীবন এক বহমান নদী। শৈশবের সেই কলতান ভরা দিনগুলো একসময় সময়ের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়। অভাব থাকলেও যেখানে ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না, সেই সোনারঙা সুখের দিনগুলো আজ কেবলি স্মৃতির ধুলোবালি। সময়ের আবর্তনে, ভুল সিদ্ধান্ত আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একটি সুখী পরিবারের বদলে যাওয়ার গল্প এটি।

​স্বর্ণালী অতীত: রহমান সাহেব এবং ফাতেমা বেগমের সংসার ছিল যেন এক টুকরো স্বর্গ। পাঁচ ভাই-বোন—আদিল, তানভীর, সাবিহা, রাইসা এবং জাওয়াদকে নিয়ে তাদের সেই মাটির ঘরটি ছিল মায়ার বাঁধনে বাঁধা। অভাবের সংসারেও বাবা সন্তানদের গান শেখাতেন, মা নিজ হাতে একই থালায় সবাইকে ভাত মেখে খাইয়ে দিতেন। সেই হাসিমুখ আর একতার সুর আজও বড় ছেলে আদিলের কানে বাজে। ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার ঠিক আগেই ঘর আলো করে এসেছিল সবার ছোট জাওয়াদ, যেন অন্ধকারের মাঝে এক চিলতে নতুন আশার আলো।

​ভাগ্যের বিবর্তন ও বিচ্ছিন্নতা: সময়ের সাথে সাথে ভাই-বোনেরা বড় হয়, বিয়ে করে আলাদা নীড় বাঁধে। কিন্তু জীবনের নিষ্ঠুরতা শুরু হয় মা ফাতেমা বেগমের প্রয়াণের পর। মায়ের অনুপস্থিতি যেন গোটা পরিবারের ঐক্যের সুতোটি ছিঁড়ে দেয়। রহমান সাহেব বার্ধক্য আর একাকীত্বে নুয়ে পড়েন, সন্তানদের আগের মতো আগলে রাখতে ব্যর্থ হন। বড় ছেলে আদিল এক দুর্ঘটনায় তার পা এবং কর্মক্ষমতা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। বোন সাবিহার সাজানো সংসার ঋণের দায়ে ছারখার হয়ে যায়, তার স্বামী এক বুক কষ্ট নিয়ে ইন্তেকাল করেন। রাইসা নিজের সংসারে মোটামুটি থিতু হলেও সবার দুঃখে সে আজ দিশেহারা। আর সবার ছোট জাওয়াদ আজ অনেকের আশ্রয়স্থল হলেও সেই আগের পারিবারিক সজীবতা আজ আর নেই।

​মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক বাস্তবতা:  একটি পরিবারের ভাঙনের পেছনে কেবল অভাব দায়ী থাকে না; অনেক সময় ব্যক্তিগত অহংকার, ভুল সিদ্ধান্ত এবং চারপাশের মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বড় ভূমিকা রাখে। বিপদে পড়লে আপনজনরা কতটা ছোট চোখে দেখে, সেই অভিজ্ঞতা আদিলকে প্রতিনিয়ত দগ্ধ করে। এছাড়া, পরিবারের নতুন সদস্যদের মানসিকতা এবং বাবার সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব অনেক সময় ভাই-বোনের সুসম্পর্ককে বিষিয়ে তোলে। আত্ম-অহংকার মানুষকে অন্ধ করে দেয়, যার চূড়ান্ত ফলাফল কেবলই শূন্যতা।

​উপসংহার:  রহমান সাহেবের পরিবারের এই গল্পটি আসলে আমাদের সমাজেরই এক গভীর ক্ষত। যেখানে শৈশবের নিটোল ভালোবাসা বড় হওয়ার সাথে সাথে স্বার্থ আর বাস্তবতার কাছে হেরে যায়। মা হলেন একটি সংসারের কেন্দ্রবিন্দু, তিনি চলে গেলে সংসারটি দিকশূন্য হয়ে পড়ে। আজ সেই পাঁচ ভাই-বোন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, কিন্তু তাদের মনের কোনো এক কোণে আজও জমা হয়ে আছে সেই মাটির ঘরের বারান্দায় একসাথে বসে খাওয়ার অমলিন স্মৃতি। এই উপাখ্যান আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পরিবারের একতা ও ভালোবাসা যেকোনো বৈষয়িক সম্পদের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।মানুষের জীবন এক বহমান নদী। শৈশবের সেই কলতান ভরা দিনগুলো একসময় সময়ের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়। অভাব থাকলেও যেখানে ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না, সেই সোনারঙা সুখের দিনগুলো আজ কেবলি স্মৃতির ধুলোবালি। সময়ের আবর্তনে, ভুল সিদ্ধান্ত আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একটি সুখী পরিবারের বদলে যাওয়ার গল্প এটি।

 



ফেসবুকে আমরা