নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
পরকীয়া ও প্রতারণার পথ সুগম করতে নিজের আড়াই বছর বয়সী পরীর মতো কন্যাসন্তানের ওপর মাসের পর মাস অমানুষিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগে এক পাষণ্ড মাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সাথে শিশুটিকে তার দাদীর জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে আদালত প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।
মামলার বিবরণ ও লন্ডন প্রবাসী স্বামীর পক্ষের আইনজীবীর সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই নারীর এটি চতুর্থ বিয়ে। এর আগেও তিনি আরও তিনটি বিয়ে করেছিলেন এবং প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিপুল অঙ্কের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমান প্রবাসী স্বামীর সাথেও দীর্ঘদিন ধরে তার মনোমালিন্য চলছিল। বাবার বাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা এনে দেওয়ার জন্য স্বামীর পরিবারকে ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছিলেন ওই নারী।
আইনজীবী জানান, নিজের পরকীয়া সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতে এবং প্রবাসী স্বামীর ওপর প্রতিশোধ নিতে আড়াই বছরের নিষ্পাপ শিশুটির ওপর দীর্ঘ দিন ধরে নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন তিনি। শিশুটির কান্নাকাটি ও জখমের বিষয়টি জানাজানি হলে একপর্যায়ে বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় গড়ায় এবং পুলিশ ওই অভিযুক্ত মাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।
আদালতের তাৎক্ষণিক নির্দেশনা:
শুনানির পর বিজ্ঞ আদালত অভিযুক্ত নারীকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সাথে ওই মহিলার মানসিক বিকৃতি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে অতি দ্রুত তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা (Mental Health Check-up) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ওঠা পরকীয়া এবং পূর্বের বিয়ে সংক্রান্ত প্রতারণার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দাদীর জিম্মায় শিশু, আদালত প্রাঙ্গণে কান্না:
আদালতের নির্দেশে আড়াই বছরের শিশুটিকে তার দাদীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর নির্যাতিত ও অবহেলিত নাতনিকে নিজের বুকে ফিরে পেয়ে আদালত প্রাঙ্গণেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধা দাদী। উপস্থিত জনতা ও আইনজীবীরা জানান, দাদীর আকুলতা ও অশ্রুভেজা চোখই বলে দিচ্ছিল শিশুটির প্রতি তার ভালোবাসা কতটা গভীর। মায়ের পৈশাচিক খাঁচা থেকে মুক্ত হয়ে দাদীর কোলে ঠাঁই পাওয়া শিশুটিকে দেখতে আদালত পাড়ায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়।
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অপরাধী মায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে।