হাফিজুল ইসলাম লস্কর
বাবার হাতেই শাণিত অস্ত্র,
বাবার চোখেই লোহু,
তিনটি অবুঝ প্রাণের সামনে
নিভল প্রাণের মোহু।
মা বলে যে ডাকত তারা
সেই মায়েরই রক্তে লাল,
পাষণ্ড এক পিতার হাতে
থমকে গেল মহাকাল।
“ছেড়ে দাও গো, ক্ষমা করো
মিনতি ছিল মেলা,
চরণে লুটিয়ে দু-চোখ ভিজেও
ফুরালো না নিষ্ঠুর খেলা।”
হৃদয় কি তার পাথর ছিল?
নাকি পিশাচের বাস?
চাপাতির নিচে ফুরিয়ে গেল
মায়ের শেষ নিশ্বাস।
বড় মেয়েটির করুণ আর্তি
কাঁপায় আকাশ-বাতাস,
বাবার রূপী জল্লাদটার
বীভৎস রক্তাক্ত উল্লাস!
শিশুর চোখে মায়ের মরণ
এ কোন নরকপুরী?
মমতার বুকে বিঁধল পাষাণ
হিংস্র শাণিত ছুরি।
বাপের বাড়ি থেকে ডেকে এনে
যমদূত সেজে ফেরা,
বিশ্বাসেরই সুযোগ নিয়ে
করলে আপন হারা।
রক্তে ভেজা উঠান জুড়ে
কান্নার এক রোল,
মা হারিয়ে শূন্য ঘরে
বিষাদ মাখা কোল।
বিচার চাইবে কার কাছে
ঐ এতিম কচি প্রাণ?
সমাজ কি শুনতে পায় ওই
গুমরে মরা গান।
মায়ের রক্তে রঞ্জিত হাত
পাবে না কোনো ক্ষমা,
পাহাড় সমান পাপের বুঝুক
শাস্তি চরম জমা।
রচনাকাল:- ২৮/০৪/২০২৬