সুবর্ণ বিশ্বাস, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের দলিলপুর গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষ ও মারামারির জেরে দায়ের করা পৃথক দুই মামলায় ১৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শনিবার ও রবিবার (৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর) দলিলপুর গ্রামজুড়ে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে শৈলকুপা থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর দলিলপুর গ্রামে সামাজিক আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় এজাহার দায়ের করলে শৈলকুপা থানায় পৃথক দুটি মামলা (মামলা নং- ০৬/৯/২৬ এবং মামলা নং- ০৭/৯/২৬) রজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পর শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির মোল্লার দিকনির্দেশনায় পুলিশি দল দলিলপুর গ্রামে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মামলা নং-০৬(৯)২৬-এর এজাহারনামীয় ৯ জন এবং মামলা নং-০৭(৯)২৬-এর ৬ জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের তালিকা:
মামলা নং-০৬(৯)২৬ এর আসামি (৯ জন):
১. মো. আতিয়ার শেখ (৬০), পিতা-মৃত ময়েন উদ্দিন শেখ
২. মো. সাজ্জাদ শেখ (৩৫), পিতা-তোফাজ্জেল শেখ @ তুফা
৩. মো. শাহিন শেখ (৪০), পিতা-মো. আলী আকবর শেখ
৪. মো. আজিজুল হাকিম (২৪), পিতা-মো. জামাল উদ্দিন কারীকর
৫. মো. হাফিজ মোল্লা (৩৭), পিতা-লতিফ মোল্লা
৬. মো. সাহেব আলী (৫৫), পিতা-আব্দুল আজিজ
৭. মো. রাজিব আহম্মেদ (২২), পিতা-ইমারত জোয়ার্দ্দার
৮. মো. আমিন জোয়ার্দ্দার (২৩), পিতা-বিকুল জোয়ার্দ্দার
৯. মো. সাজ্জাদ জোয়ার্দ্দার (৬২), পিতা-আতর আলী জোয়ার্দ্দার।
(সকলের ঠিকানা: গ্রাম- দলিলপুর, ইউনিয়ন- বগুড়া, থানা- শৈলকুপা, জেলা- ঝিনাইদহ)
মামলা নং-০৭(৯)২৬ এর আসামি (৬ জন):
১. মো. জসিম মন্ডল (২৮), পিতা-মো. গোলাম মন্ডল
২. আকরাম বিশ্বাস (২৭), পিতা-রেজাউল বিশ্বাস
৩. মো. শাকিল গাজী (২৪), পিতা-মোহাম্মাদ আলী গাজী
৪. মো. আব্দুল লতিফ (৬৫), পিতা-মৃত গফুর শেখ
৫. নায়েব আলী মন্ডল (৩৯), পিতা-মৃত ইমান আলী @ ইসমাইল মন্ডল
৬. ইমদাদ শেখ (২৯), পিতা-মো. আরব আলী শেখ।
(সকলের ঠিকানা: গ্রাম- দলিলপুর, থানা- শৈলকুপা, জেলা- ঝিনাইদহ)
গ্রেফতারের বিষয় নিশ্চিত করে শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ূন কবির মোল্লা জানান, গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর গ্রামজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল ও আইনগত তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।