সুবর্ণ বিশ্বাস,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহে সার ডিলার নিয়োগে কোটি টাকার ঘুষ ও চরম অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া য় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাফিকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও সাহসী অবস্থান নেওয়ার জন্য যেখানে তাকে পুরস্কৃত করার কথা, সেখানে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি বহিষ্কার করায় সাধারণ শিক্ষার্থী ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কোটি টাকার অনিয়ম ও ভাইরাল ফোনালাপ
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের সাথে ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম রাফির একটি ফোনালাপ ভাইরাল হয়। ওই ফোনালাপে রাফি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন যে, সার ডিলারশিপ বন্টনে কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। অনিয়মের পেছনে জেলা পরিষদ প্রশাসক এম এ মজিদের নাম উল্লেখ করে তিনি জানান, এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট প্রমাণাদি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে।
ফোনালাপের এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে রাফির সেই সাহসী বক্তব্য এখন সবার মুখে মুখে:
“আপনি কারও ক্রীড়নক না হয়ে মেরুদণ্ড সোজা করে কাজ করুন।”
একজন জেলা প্রশাসকের সামনে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এমন সরাসরি জবাবদিহিতা চাওয়া এবং আপসহীন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা এই ছাত্রনেতার সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
তড়িঘড়ি বহিষ্কার ও অনিয়মের অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজ চক্রের মুখোশ উন্মোচন করার কারণেই রাফির বিরুদ্ধে এই প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রাফিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বহিষ্কারের আদেশের পর ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে ছাত্রনেতা রফিকুল ইসলাম রাফি বলেন:
“ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ প্রশাসকের অন্যায়, অবৈধ বাণিজ্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলাই আমার একমাত্র অপরাধ। আমাকে কোনো কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়নি, এমনকি আত্মপক্ষ সমর্থনের সামান্য সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। কোনো তদন্ত ছাড়াই আমাকে এভাবে বহিষ্কার করা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক।”
প্রশ্নের মুখে ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত
এই বহিষ্কারের ঘটনায় কেন্দ্র ও তৃণমূলের সাংগঠনিক নীতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বক্তব্য—কৃষকের স্বার্থে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা কীভাবে ‘সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ’ হতে পারে?
সাধারণ শিক্ষার্থী ও স্থানীয় অধিবাসীদের একাংশ বলছেন, যখন একজন তরুণ নেতা ক্ষমতার দাপট ও অনিয়মের বিরুদ্ধে গিয়ে আপসহীন লড়াইয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তখন তাকে সুরক্ষা ও উৎসাহ না দিয়ে বহিষ্কার করা সংগঠনের ভাবমূর্তিকেই মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, অবিলম্বে এই অন্যায় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং রফিকুল ইসলাম রাফির মতো সাহসী নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হোক।