মোঃ নাঈম উদ্দীন,জীবননগর উপজেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
পাত্রী পক্ষের সাথে ভুয়া পরিচয় ও মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে একের পর এক প্রতারণামূলক বিয়ে, যৌতুকের জন্য নির্যাতন এবং গর্ভবতী স্ত্রীর পেটে লাথি মারার মতো গুরুতর অভিযোগে মো. সালাউদ্দিন ওরফে সালাম (৩৫) ও তার বড় ভাই মো. সেলিমকে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনা থানার বড় দুধপাতিলা ও দোস্তগ্রাম আমতলা এলাকার ‘আবুল ফার্মেসি’র স্বত্বাধিকারী সালাউদ্দিন ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতারণার জাল বিস্তার করে আসছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সালাউদ্দিন বিভিন্ন এলাকায় নিজেকে কখনো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা, কখনো দর্শনার বিখ্যাত ‘কেরু অ্যান্ড কোম্পানি’র চাকুরিজীবী, এবং ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করা, আবার কখনো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্নকারী হিসেবে পরিচয় দিত। এই মিথ্যা ও সাজানো পরিচয়ের আড়ালে সে একে একে ছয়টি বিয়ে করেছে। প্রতিটি বিয়ের পরেই যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীদের ওপর নেমে আসত অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। যৌতুক দিতে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর তালাক দেওয়া হতো।
এই পুরো অপকর্মের সাথে সালাউদ্দিনের বড় ভাই মো. সেলিম এবং মা সেলিনা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে এই চক্রটির বিরুদ্ধে।
প্রতারণার শিকার হওয়া একাধিক নারীর বিস্তারিত পরিচয় ও তথ্যাদি থেকে জানা যায় এই চক্রের ভয়ংকর রূপ:
প্রথম স্ত্রী: মোছা. রিনা খাতুন (পিতা: বশিরউদ্দিন, মাতা: মমতাজ বেগম, গ্রাম: ছাতিয়ান, মিরপুর, কুষ্টিয়া)। একটা ছেলে সন্তান আছে তার ভরণপোষণ দেয়না।
দ্বিতীয় স্ত্রী: মোছা. তমা (পিতা: নিজামউদ্দিন, মাতা: কাকলী বেগম, গ্রাম: ফুলতলা, খুলনা)।
তৃতীয় বিয়ে: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে দর্শনায় এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় ৩ লাখ টাকা নেওয়ার পাশাপাশি আরও যৌতুকের দাবিতে পাত্রীপক্ষকে হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে টাকা দিতে না পারায় ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে তাকে তালাক দেওয়া হয়। আর দুই জন স্ত্রী-(৪ ও ৫) নং খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ষষ্ঠ স্ত্রী: বর্তমান ও সর্বশেষ ভুক্তভোগী ৬ নম্বর স্ত্রী মোছা. সন্ধ্যা খাতুন (সাং: ভেড়ামারা)। তিনি বর্তমানে গর্ভবতী থাকা অবস্থাতেও তার ওপর চালানো হয়েছে অমানবিক নির্যাতন।
অভিযোগ রয়েছে, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তার পেটে লাথি মারা হয় এবং জোরপূর্বক যৌতুকের টাকা দাবি করা হয়।
নির্যাতিত ও প্রতারিত নারীদের পরিবার এবং সর্বশেষ ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত থেকে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করে পুলিশ।
এর পরিপ্রেক্ষিতেই প্রধান অভিযুক্ত সালাউদ্দিন ওরফে সালাম এবং তার সহযোগী বড় ভাই মো. সেলিমকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, সালাউদ্দিন ও তার পরিবার ছলে-বলে-কৌশলে নানা উপায়ে নিরীহ পরিবারগুলোর কাছ থেকে যৌতুক হিসেবে নগদ অর্থ, মোটরসাইকেল ও দোকানের মালামাল হাতিয়ে নিয়েছে।
এই চক্রটি যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো innocent পরিবারের জীবন ধ্বংস করতে না পারে, সেজন্য সামাজিকভাবে সচেতন থাকার এবং আইনি কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুধীসমাজ ও ভুক্তভোগীরা।