৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ১৪ ক্লাবের নামে বরাদ্দ, অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন; নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়ার অভিযোগ।
আব্দুস সামাদ
রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি:
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ২ লাখ টাকার ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ১৪টি ক্লাবের নামে এসব ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হলেও কয়েকটি সংগঠনের অস্তিত্ব ও কমিটি নিয়েই দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। একই সঙ্গে সরবরাহ করা সামগ্রীর মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমানের মাধ্যমে এসব ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। বাজারের বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রিক দোকান ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি সেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ হাজার ২০০ টাকা। তাহলে ১৮টি প্রতিষ্ঠান/ক্লাবের জন্য মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ এ খাতে এডিপির বরাদ্দ ছিল ২ লাখ টাকা। ফলে বরাদ্দকৃত অর্থের সঙ্গে সরবরাহকৃত সামগ্রীর মূল্যের বড় ধরনের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
হরিসভা যুবসমাজ নামে একটি সংগঠনের নামেও ক্রীড়া সামগ্রী তোলার ঘটনা সামনে এসেছে। সরেজমিনে এ সংগঠনের নামে ক্রীড়া সামগ্রী নিতে আসা আলিফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তিনি সংগঠনটির অবস্থান, সভাপতি কিংবা পরিচালনা কমিটির সদস্যদের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
আলিফ জানান, “চেয়ারম্যান আমাকে ফোন দিয়ে ক্রীড়া সামগ্রী নিয়ে আসতে বলেছিলেন, তাই আমি এনেছি।” তবে সংগঠনটির কার্যক্রম কোথায় পরিচালিত হয়, সভাপতি কে বা পরিচালনা কমিটিতে কারা রয়েছেন—এসব বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি। এতে হরিসভা যুবসমাজ নামে সংগঠনটির প্রকৃত অস্তিত্ব ও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে বিতরণ করা ক্রীড়া সামগ্রী হিসেবে দুটি ক্রিকেট ব্যাট, ছয়টি স্টাম্প, এক জোড়া ক্রিকেট গ্লাভস ও একটি ফুটবল পাওয়া যায়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সামগ্রীগুলোর মান অত্যন্ত নিম্নমানের। পাটগ্রাম আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মাহাবুব খান
জানান, বিতরণ করা ফুটবলটি ব্যবহারের প্রথম দিনেই ফেটে গেছে। এতে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বরাদ্দে কেনা ক্রীড়া সামগ্রীর মান নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি অর্থে ক্রীড়া সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে মানসম্মত পণ্য সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৪টি ক্লাবের মধ্যে কতগুলো বাস্তবে অস্তিত্বশীল এবং তাদের বৈধ কমিটি রয়েছে কি না, তা যাচাই না করেই সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে কি না—সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া ২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে সরবরাহকৃত সামগ্রীর প্রকৃত বাজারমূল্য, ক্রয় প্রক্রিয়া, কোটেশন/দরপত্র, বিল-ভাউচার এবং কোন কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের নামে এসব সামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্বীপজন মিত্র (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জানান, বিষয়টি আমি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম, খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এডিপির সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।