মোরেলগঞ্জের চিংড়াখালীতে নদীভাঙন রোধে মানববন্ধনবসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও স্থাপনা রক্ষায় দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি।
মো. ফিরোজ আহমেদ তালুকদারমোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চিংড়াখালী ইউনিয়নের সিংজোর গোপের বাজার এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন রোধ ও বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্ট, ফসলি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল ৪টায় সিংজোর গোপের বাজার এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চিংড়াখালী ইউনিয়ন যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, সাবেক শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জাকির হোসেন, শিক্ষক মাওলানা সালেহ আহমেদ, মাওলানা মাকসুদুর রহমান ও মাওলানা মুস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুধীজনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে চিংড়াখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক শত বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, দোকানপাট ও বাজার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এতে অসংখ্য মানুষ গৃহহীন ও ভূমিহীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
বক্তারা আরও বলেন, ভাঙন অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে হাজার হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে মসজিদ, মন্দির, রাস্তাঘাট, কালভার্টসহ মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ও মৃত পূর্বপুরুষদের সমাধিও হুমকির মুখে পড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন রোধে বিভিন্ন সময় আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর ও টেকসই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছরই ভাঙনের কবলে পড়ে নতুন নতুন এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে চিংড়াখালী ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক মানুষ বসতভিটা ও জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বেন।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে নদীভাঙনের কবল থেকে জনপদ, মানুষের বসতবাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান,রাস্তাঘাট,কৃষিজমি ও পূর্বপুরুষদের সমাধিস্থল রক্ষার জোর দাবি জানান।