ইব্রাহিম খান ইমন
ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র তাজপুর বাজারের বুক চিরে বয়ে যাওয়া এক সময়ের প্রমত্তা বুড়িগঙ্গা নদীটি আজ অস্তিত্ব সংকটে। যে নদী দিয়ে এক সময় বড় বড় লঞ্চ, জাহাজ ও মালবাহী নৌকা চলাচল করত, আজ সেখানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ আর অবৈধ দখলের মহোৎসব চলছে। নদীর এই করুণ দশায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
হারানো যৌবন ও বর্তমান দুরবস্থা
স্থানীয় প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বুড়িগঙ্গা নদীটি ছিল অত্র অঞ্চলের প্রাণ। কৃষকরা নদীর পানি দিয়ে জমি চাষাবাদ করতেন, জেলেরা প্রচুর মাছ ধরতেন এবং বৃষ্টির দিনে এই নদীটিই ছিল পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। নদীর দুই পাশ দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে নদীটি এখন একটি সরু ড্রেনে পরিণত হয়েছে।
জনদুর্ভোগের কারণ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই তাজপুর বাজারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পানি যাওয়ার কোনো পথ না থাকায় বর্ষাকালে কৃত্রিম বন্যার কবলে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। নদীটি এখন ময়লা ফেলার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রভাবশালীদের থাবা ও থমকে যাওয়া উদ্ধারকাজ
অভিযোগ উঠেছে, বারবার নদী উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রভাবশালী দখলদারদের অদৃশ্য হাতের ইশারায় তা থমকে যায়। স্থানীয়দের দাবি, অনেক সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযানের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাত কারণে তা আলোর মুখ দেখে না। অর্থের দাপট আর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দখলদাররা দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
ওসমানীনগরবাসীর প্রাণের দাবি—এই নদীটিকে পুনঃখনন করে তার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা হোক। বর্তমানে সরকার যেভাবে নদী উদ্ধারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে, তার প্রতিফলন তাজপুরের বুড়িগঙ্গা নদীর ক্ষেত্রেও দেখতে চান এলাকাবাসী।
তাজপুরের সচেতন মহলের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানানো হয়েছে যে, দ্রুত যেন নদীটি অবৈধ দখলমুক্ত করে খনন কাজ শুরু করা হয়। নদীটি জীবিত হলে শুধু পরিবেশ রক্ষা পাবে না, বরং এই অঞ্চলের কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও নতুন প্রাণ সঞ্চারিত হবে।
দখলমুক্ত হোক বুড়িগঙ্গা, ফিরে আসুক নদীমাতৃক ওসমানীনগর।