উজ্জ্বল কুমার নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকার সোফা তৈরির এক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে প্রাথমিকভাবে ১৭ জন বাংলাদেশী শ্রমিক নিহতের খবর নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে বেশ কিছু যুবক সৌদি আরবে গিয়ে ওই কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজে যোগ দেন।
তবে হতাহতের এ সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সৌদি আরবের সোফা কারখানায় আগুনে পুড়ে মৃত প্রবাসীদের অধিকাংশের বাড়ি আত্রাই উপজেলায়।
এদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৩ জনের নামের প্রাথমিক তালিকা পাওয়া গেছে।অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। বাকিদের তথ্য সংগ্রহ চলছে। ইতোমধ্যেই আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান নিহত পরিবারের সদস্যদের বাড়ি গিয়ে সমবেদনা জ্ঞাপন করাসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ খবর নেন।
উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালী গ্রামের গোফফার প্রামাণিকের ছেলে মোঃ মোহন প্রামাণিক ও মোঃ সুমুন প্রামাণিক, জান্নার ছেলে মোঃ রুবেল হোসেন ও ফজলুর ছেলে কলিউদ্দিন প্রামাণিক
ও বিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে মোঃ সুমন হোসেন, চঞ্চলের ছেলে মোঃ হাসিবুল হাসান শুভ এবং সোহেল রানা, খরসতী গ্রামের মোঃ মহিদুল ইসলাম, সাধনগর গ্রামের মোঃ সাগর হোসেন, মাদবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মোঃ মজিদুল ইসলাম এবং পাঁচুপুর ইউনিয়নের পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ জালাল ও মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মোঃ মিনহাজ।
শাহগোলা ইউনিয়নের উদনৈপ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে মোঃ ফরিদ শেখ। এছাড়াও নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের শ্রীপুর পাড়ার রাব্বানী উদ্দিনের ছেলে সাব্বির আহমেদ শুভ ও দিঘীরপাড় মহল্লার জাকের আলীর ছেলে শামীম হোসেন।
নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ঈব্রাহীম হোসেন ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নওগাঁর জেলা প্রশাসক আরো জানান, এবিষয়ে সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মৃতদেহ দেশে আসার সাথে সাথে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে।
এদিকে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্রাই উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। উপার্জন সক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে উপার্জন সক্ষম পরিবার গুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।