সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ :
কক্সবাজারের টেকনাফে যুবদের জীবনমান ও জীবিকা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের লক্ষ্যে কোয়ার্টারলি স্টেকহোল্ডার কো-অর্ডিনেশন ও কনসালটেশন মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইয়ুথ লিড পিসবিল্ডিং প্রকল্পের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় উপজেলা প্রশাসনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, NGO-INGO প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (UNO) এস এম অনিক চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শফিউল আলম, মৎস্য অফিসের ফিল্ড অফিসার শহিদুল আলমসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এছাড়া অ্যাকশনএইডের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার শুভেন্দু বিশ্বাস, রাখাইন সম্প্রদায়ের গ্রাম প্রধান মংটিন অং, ইউপি সদস্য রাহামা আক্তার, ইউপি সদস্য মো. হাসেমসহ বিভিন্ন NGO ও INGO-এর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন বুলু ও সাদ্দাম হোসেন সাজ্জাদ।
সভায় যুবদের জীবনমান উন্নয়ন, টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা, শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুবদের সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি ও সংহতি বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।
সভায় বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, যুবসমাজ একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি এবং ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় হবে। টেকনাফের মতো বৈচিত্র্যময় এলাকায় বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে যুবদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।তিনি বলেন, যুবদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে যুবদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।সভায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় যুবদের জন্য আরও বেশি দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় এবং শান্তি ও সামাজিক সংহতি প্রতিষ্ঠায় যুবদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মিটিংয়ে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে যুবদের দক্ষতা ও জীবিকার সুযোগ বৃদ্ধি করা গেলে তাদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।
মিটিংটি পরিচালনা করেন ইয়ুথ লিড পিসবিল্ডিং প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর এরশাদুল ইসলাম।