টেকনাফ প্রতিনিধি:- কামরুল ইসলাম
কক্সবাজারের টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প-২২-এর উনছিপ্রাং এলাকায় সশস্ত্র মহড়া, চাঁদাবাজি, অপহরণ, হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন রোহিঙ্গার অভিযোগ, ক্যাম্পের রইক্ষ্যং পুটিবনিয়া এলাকায় বসবাসরত মোহাম্মদ রফিক ও তার সহযোগীদের ঘিরে এসব অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় রোহিঙ্গাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে ক্যাম্পের সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, ওই চক্রের সদস্যরা প্রভাব বিস্তার করে সাধারণ রোহিঙ্গাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন।
ক্যাম্পের সি-ব্লকের হেড মাঝি নুর জুহার অভিযোগ করেন, অর্থের বিনিময়ে সি-৫ ব্লকের সিকান্দরকে হেড মাঝি করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পে উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মোহাম্মদ রফিক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি এক নারীকে নিজ বাসায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কথিত একটি সশস্ত্র গ্রুপ নিয়ে মোহাম্মদ রফিক ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় মহড়া দেন। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যাওয়া এবং মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। মুক্তিপণ দিতে ব্যর্থ হলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
কয়েকজন রোহিঙ্গার দাবি, ক্যাম্পে কারও বিরুদ্ধে কথা বলা বা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করার চেষ্টা করলে রেশন কার্ড বন্ধ করে দেওয়া কিংবা রাতে ধরে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে নিরাপত্তার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিষয়ে ক্যাম্পের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাদের দাবি, কথিত সশস্ত্র গ্রুপের কারণে সাধারণ রোহিঙ্গারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
একজন স্থানীয় রোহিঙ্গা অভিযোগ করে বলেন, “রফিকের বিরুদ্ধে কথা বললে রাতে ঘুমের মধ্যে ধরে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার ভয় দেখানো হয়। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি—অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।”
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মিয়ানমার থেকে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে ওই চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ রফিকের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মোহাম্মদ সাব্বিরের বক্তব্যও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
সাধারণ রোহিঙ্গাদের দাবি, বিষয়টিকে কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত বিরোধ হিসেবে না দেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—ক্যাম্পে যদি সত্যিই সশস্ত্র মহড়া, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?
তাদের দাবি, দ্রুত ক্যাম্প এলাকায় প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো, অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।