ইন্টারন্যাশনাল প্রতিনিধি : মোহাম্মদ জান্নাত মোল্লা কম্বোডিয়া
কম্বোডিয়া বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত। ভৌগোলিকভাবে এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত একটি দেশ।
দেশটি মূলত তার প্রাচীন স্থাপত্য, বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম ধর্মীয় স্থাপনা আঙ্কোর ওয়াটের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এছাড়াও মনোরম সমুদ্রসৈকত, মেকং নদীর তীরবর্তী ভাসমান গ্রাম, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কারণে প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক কম্বোডিয়া ভ্রমণ করেন।
এখানে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিক নির্মাণশিল্প, গার্মেন্টস, কৃষি, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ব্যবসা, ইংরেজি শিক্ষকতা, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতে আসেন।
তবে সম্প্রতি কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত কিছু অসাধু দালাল ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তারা চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে থাকেন। অনেক ক্ষেত্রে এজেন্ট ফি হিসেবে ২০ থেকে ১০০ মার্কিন ডলার নেওয়া হলেও পরে আর চাকরির কোনো ব্যবস্থা করা হয় না এবং যোগাযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এছাড়া কিছু ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চাকরির কথা বলে তাদের নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিয়ে আটকে রাখা হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। কোথাও কোথাও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের বিষয়।
অন্যদিকে, ট্রাভেল এজেন্সির পরিচয় ব্যবহার করে কিছু প্রতারক পাসপোর্ট ও অর্থ গ্রহণের পর নির্ধারিত সময়ে ভিসা না দেওয়া, অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা কিংবা পাসপোর্ট ফেরত না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। আবার কিছু ব্যক্তি অস্থায়ী অফিস খুলে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর অফিস বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
এসব প্রতারণার কারণে অনেক বাংলাদেশি নানা জটিলতায় পড়েছেন। কেউ কেউ বৈধ কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে ফিরতে না পেরে অবৈধভাবে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন।
বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে এবং ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় ইতোমধ্যে বহু অনিয়মিত বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।
এছাড়াও জরিমানা (Penalty) মওকুফের নামে প্রতারণার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ব্যক্তি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ জরিমানা মওকুফ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০ থেকে ৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত আদায়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, জরিমানা মওকুফের আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো ফি নেওয়া হয় না।
বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান, চাকরি, ভিসা, পাসপোর্ট বা জরিমানা মওকুফ সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে অর্থ লেনদেনের আগে অবশ্যই তথ্য যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
সহায়তা বা তথ্যের জন্য ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ইমেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
ওয়েবসাইট: [বাংলাদেশ দূতাবাস, ব্যাংকক](https://bangkok.mofa.gov.bd)
ইমেইল: [mission.bangkok@mofa.gov.bd] (mailto:mission.bangkok@mofa.gov.bd)