আজিজুর ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার:
সামাজিক সচেতনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো রাজশাহীর তানোর উপজেলার চাঁন্দুরিয়া ইউনিয়ন। একটি নিরাপদ, শিক্ষাবান্ধব ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইউনিয়নকে ‘বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই অর্জনের আনন্দ উদযাপন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা।
ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকারের উদযাপন:
চাঁন্দুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, যুব ও শিশু ফোরাম এবং স্থানীয় এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে একাত্মতা প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন, তানোর এপি প্রোগ্রাম এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে বক্তারা একবাক্যে স্বীকার করেন, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম কেবল আইনগত অপরাধ নয়, এটি সমাজের অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায়।
অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন:
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁন্দুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ তানোর এপির ভারপ্রাপ্ত এপি ম্যানেজার এন্ড্রিকাস মুর্মু, উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সোনালী খাতুন, চান্দুরিয়া ডা. আবু বক্কর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান, চাঁন্দুরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার নাসির উদ্দিন এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের তানোর এপির প্রোগ্রাম অফিসার নিকোলাস ঢালী। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্তভাবে সঞ্চালনা করেন তানোর এপির ইয়ুথ লিডার সৈয়দ মাহামুদ শাওন।
বক্তাদের আহ্বান: আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘শুধুমাত্র ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না, এই অর্জনকে টেকসই করতে আমাদের প্রতিটি গ্রাম ও পাড়ায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’ তারা বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূরীকরণে সামাজিক অংশগ্রহণ এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন।
পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে অভিভাবক ও সচেতন মহলকে নিয়মিত ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, যুব ও শিশু ফোরামের সদস্য এবং বিপুল সংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। এই আয়োজন তানোরের অন্যান্য ইউনিয়নের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল হয়ে থাকবে বলে উপস্থিত সকলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।