মোঃ নাঈম উদ্দীন, বিশেষ প্রতিনিধি (চুয়াডাঙ্গা):
চুয়াডাঙ্গা জেলায় জ্বালানি তেলের সুষম বণ্টন ও অপচয় রোধে মাইলফলক হিসেবে যাত্রা শুরু করা ‘ফুয়েল পাস’ (Fuel Pass) অ্যাপের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সমন্বয়ে এখন থেকে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িও (Private Car) এই ডিজিটাল সিস্টেমের আওতায় আসছে।
গতকাল ২৬ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যক্তিগত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু সিরিজের যানবাহনকে এই সুযোগ দেওয়া হলেও দ্রুতই পুরো জেলাকে এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে।
কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাথমিক ধাপে ‘ক’, ‘খ’ এবং ‘গ’ সিরিজের ব্যক্তিগত গাড়িগুলো ফুয়েল পাসে নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিরিজের গাড়িগুলোকেও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিদ্রুত জেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িতেও এই ডিজিটাল পাস প্রদর্শন সাপেক্ষে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় ইতিপূর্বে যাদের কাছে ম্যানুয়াল ফুয়েল কার্ড ছিল, তাদের জন্যও নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতি বাতিল করে বাধ্যতামূলকভাবে ফুয়েল পাস অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলার সকল পাম্পে ডিজিটাল সিস্টেম কার্যকর করা হবে। এরপর থেকে ডিজিটাল ফুয়েল পাস ব্যতীত কোনো যানবাহনে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে না।
রেজিস্ট্রেশন করবেন যেভাবে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী এবং সাধারণ গ্রাহকদের সুবিধার্থে তিনটি মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ রাখা হয়েছে:
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী: গুগল প্লে-স্টোর থেকে ‘ফুয়েল পাস’ https://play.google.com/store/apps/details?id=com.emrd.fuelpass অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধন করা যাবে।
ওয়েবসাইট: সরাসরি www.fuelpass.gov.bd লিংকে গিয়ে তথ্য প্রদান করে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
আইফোন (iOS) ব্যবহারকারী: আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপের পরিবর্তে সরাসরি ওয়েবসাইট লিংকের মাধ্যমে তাদের আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল বিক্রিতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, কৃত্রিম সংকট রোধ এবং প্রকৃত গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি যানবাহন প্রতিদিন বা মাসিক কতটুকু জ্বালানি গ্রহণ করছে, তার একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি হবে, যা অবৈধভাবে তেল মজুত বা কালোবাজারি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
জেলা প্রশাসন ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ জেলার সকল গাড়ি মালিক ও চালককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অনলাইন নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সরকারি এই উদ্যোগকে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।