ইব্রাহিম খান ইমন, ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উছমানপুরে প্রাচীন রহস্যের ছোঁয়া নিয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসখ্যাত ‘গায়েবি মসজিদ’। এক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে মসজিদটির নির্মাণকাল অজানা থাকলেও এটি প্রায় হাজার বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হয়। সুলতানি আমলে নির্মিত এই মসজিদটি কেবল এক উপাসনালয়ই নয়, বরং আঞ্চলিক ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সংহতির এক অনন্য অংশ।
তাজপুর-বালুগঞ্জ রোডের পাশে অবস্থিত এই প্রাচীন রহস্যময় স্থাপনাটি স্থানীয়দের কাছে ‘গায়েবি মসজিদ’ নামে পরিচিত। মসজিদের সঠিক নির্মাণকাজ ও নির্মাতার পরিচয় জানা না থাকলেও এটি আবিষ্কারের অলৌকিক কাহিনী লোকমুখে বেশ প্রচলিত। প্রচলিত আছে, এক সময় মসজিদটি টিলা ও জঙ্গলের আড়ালে হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে জঙ্গল ও টিলা কেটে মসজিদটি পুনরুদ্ধার করা হয়। টিলা কাটতে গিয়ে হঠাৎ কোদালের আঘাতে একটি পাকা স্থাপনার অংশ বেরিয়ে আসলে স্থানীয় মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের সম্মতিতে খনন কাজ চালিয়ে অবশেষে পাওয়া স্থাপনাটি মসজিদ বলে চিহ্নিত করা হয়।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই অলৌকিক আবিষ্কারই এলাকাটিতে নতুন বসতির দিকনির্দেশনা দিয়েছিল। কালক্রমে সৈয়দ ওসমান বাগদাদী (র.)-এর নামানুসারে গ্রামটির নামকরণ করা হয় ‘উসমানপুর’। শত শত বছরের প্রাকৃতিক ক্ষয়-ক্ষতির পরও এর দেওয়ালে জেগে আছে প্রাচীন সভ্যতার স্পর্শ।
মসজিদের স্থাপত্যশৈলী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি ৩২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩২ ফুট প্রস্থের এক চতুর্ভুজ আকৃতির কাঠামো। তবে ওপরের দিকে উঠতে গিয়ে দেওয়ালগুলো ক্রমান্বয়ে গোল হয়ে গম্বুজের সঙ্গে মিশে গেছে। মসজিদে দুটি জানালা এবং পূর্ব দিকে একটি বিশাল প্রধান প্রবেশদ্বারের পাশাপাশি দুপাশে আরও দুটি ছোট প্রবেশদ্বার রয়েছে। একসঙ্গে প্রায় ৫০ জন মুসল্লি সালাত আদায় করতে পারা এই মসজিদটির দেওয়াল ও ছাদে প্রাচীন আমলের নান্দনিক কারুকাজ এখনো বহমান রয়েছে। ঐতিহ্য আর রহস্যের এই মেলবন্ধন দেখতে আজও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিহাসপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ এখানে ছুটে আসেন।