মোঃ নাঈম উদ্দীন ,জীবননগর উপজেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং বিপুল পরিমাণ লোকসানের কথা বলে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রবিবার রাত ১২টা থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া পেট্রল ও অকটেনের দাম বাড়িয়ে যথাক্রমে ১৬০ টাকা ও ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের নতুন দামের এক নজরে তালিকা:
ডিজেল: বর্তমান দাম ১৩৫ টাকা (পূর্বে ছিল ১১৫ টাকা)
কেরোসিন: বর্তমান দাম ১৫৫ টাকা (পূর্বে ছিল ১৩৫ টাকা)
পেট্রল: বর্তমান দাম ১৬০ টাকা (পূর্বে ছিল ১৪০ টাকা)
অকটেন: বর্তমান দাম ১৬৫ টাকা (পূর্বে ছিল ১৪৫ টাকা)
জ্বালানি বিভাগের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে গত মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেল ও ফ্রেইট চার্জ (জাহাজভাড়া) উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে সরকার গত ১৮ এপ্রিল ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। জ্বালানি বিভাগের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেলেও বিগত পাঁচ মাস দেশে তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক কম রয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য না রেখে দেশের বাজারে দাম কম রাখায় গত মার্চ থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মোট ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতেই সরকার শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করল।
হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের এই ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, পণ্য পরিবহন খরচ এবং কৃষিখাতে সেচ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারদর আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদ ও সাধারণ জনগণ।