স্টাফ রিপোর্টারঃ- মোঃ জহিরুল ইসলাম
দেশের শিল্প খাতের প্রতিটি ধমনীতে বয়লার সচল থাকলেও, এই বয়লারকে ঘিরে থাকা হাজার হাজার দক্ষ বয়লার পরিচারকের জীবনের নিরাপত্তা আজ চরম ঝুঁকির মুখে। বয়লার পরিচারকদের সকল সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে ‘বয়লার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ (গভ: রেজি নং ১৩২৯৪)’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইমন হাসান শিল্পকারখানায় চলমান নৈরাজ্য ও অনিরাপদ কর্মপরিবেশের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। এই দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন ‘ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা।
নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন বয়লার পরিচারকরা
সম্প্রতি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে অবৈধ বিটুমিন কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে দুই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশের বয়লার পরিচারকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র ইমন হাসান এই মৃত্যুকে ‘সিস্টেমিক ফেইলিয়র’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “সকল সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি—নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস নয়। শুধু নথিপত্র পরীক্ষা করে রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করার পুরোনো সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি বয়লারের ফিজিক্যাল কন্ডিশন ও হাইড্রোলিক টেস্ট নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
মানবিক ও সামাজিক সংহতি
এই দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত রক্তদান ও মানবিক সেবা নিয়ে কাজ করি। কিন্তু কারখানায় অবহেলার কারণে বয়লার বিস্ফোরণ যখন তরতাজা প্রাণ কেড়ে নেয়, তখন সেই মৃত্যুর দায় আমরা আর কতকাল দেখব? বয়লার পরিচারকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক দায়বদ্ধতা। আমি বয়লার ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সকল দাবির সাথে একমত পোষণ করছি এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।”
কর্মপরিবেশ ও মর্যাদা নিশ্চিতের দাবি
বয়লার পরিচারকরা শিল্পকারখানার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় না। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, অনেক কারখানায় বয়লার রুমে পরিচারকের বসার মতো নূন্যতম পরিবেশ না থাকা এবং মালিকপক্ষের চাপে পরিচারকদের দিয়ে অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানোর যে প্রবণতা রয়েছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি কড়া বার্তা
ইমন হাসান শিল্প মন্ত্রণালয়, প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয় ও কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাদের নজরদারির অভাবেই আজ অদক্ষ হাতে বয়লার পরিচালিত হচ্ছে। বাতিল বয়লারের নবায়ন বন্ধ করুন এবং সনদধারী বয়লার পরিচারকদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করুন। আপনাদের উদাসীনতা ও অবহেলার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না।”
দেশ ও জানমালের সুরক্ষায় হুঁশিয়ারি
সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে রাজবাড়ীর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে। দেশের সকল বয়লার পরিচারক ও সংশ্লিষ্ট মানবিক সংগঠনগুলো একযোগে এই দাবি আদায়ে রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
শিল্পকারখানাকে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি থেকে মুক্ত করতে সরকার ও উদ্যোক্তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক—এই প্রত্যাশাই এখন দেশের সকল বয়লার পরিচারক ও মানবিক সংগঠনের।