মোঃ রানা,স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ‘মব’ তৈরি করে গণপিটুনি ও যৌন নিপীড়নের সাজানো মামলায় কারারুদ্ধ শিক্ষক শাহ আলম অবশেষে ২২ দিন পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এমরান হোসাইন চৌধুরী শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ১৮ আগস্ট সকালে। উপজেলার বড় বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে বিদ্যালয় কক্ষেই অবরুদ্ধ করে একদল চিহ্নিত দুর্বৃত্ত। সেখানে তাকে নির্মমভাবে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এক ছাত্রীকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। হামলায় গুরুতর আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। একপর্যায়ে তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এক আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষক শাহ আলম বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র বিদ্যালয়ের পুকুর ইজারাসহ নানা অবৈধ সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়েছে। সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে একটি মিথ্যা অজুহাত তৈরি করে ‘মব’ গঠনপূর্বক তাকে শারীরিক নির্যাতন ও কারাবাস করানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখায় ন্যায়বিচার পেয়েছেন জানিয়ে তিনি আদালত এবং সত্য উন্মোচনে ভূমিকা রাখা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষককে পেটানোর পর নিজেদের অপরাধ ঢাকতে হামলাকারীরা এক ছাত্রীর নাম ব্যবহার করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে একটি স্বাক্ষরবিহীন অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাদা কাগজে লেখা ওই বিতর্কিত চিঠিটি প্রকাশ পাওয়ার পরই শিক্ষক সমাজের মাঝে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
পরবর্তীতে স্থানীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ওই শিক্ষককে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানোর প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে।