আব্দুস সামাদ রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি।
শীতের আমেজ শুরু হওয়ার আগেই বাজারে নতুন আলু তুলে চড়া দাম পাওয়ার আশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকেরা। আমন ধান কাটার পরপরই উঁচু ও উর্বর জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণে নেমেছেন তারা।
গত মৌসুমে আলুর আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবার অনুকূল আবহাওয়া, বীজের সাশ্রয়ী মূল্য এবং সারের স্বাভাবিক সরবরাহকে কাজে লাগিয়ে আগেভাগেই মাঠে নেমেছেন এ অঞ্চলের চাষিরা।
কৃষিপ্রধান নীলফামারীর দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটি আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে আগাম আলু উৎপাদনের জন্য খ্যাত। স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় ‘সেভেন’ জাতের আলু রোপণের মাত্র ৫০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যেই খেত থেকে তোলা যায়।
উপজেলার বাহাগিলী, নিতাই, পুটিমারী, গাড়াগ্রাম ও রণচণ্ডীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে এখন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা তুঙ্গে। জমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে বীজ রোপণের কাজে মুখরিত চারপাশ। ফলে অঞ্চলে শ্রমিকের চাহিদার পাশাপাশি বেড়েছে মজুরিও।
বাহাগিলী ইউনিয়নের কৃষক মিনারুল ইসলাম জানান, তিনি ৭০ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করছেন। আলু তোলা পর্যন্ত জমি ইজারা, হালচাষ, সার ও শ্রমিকসহ মোট ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে নতুন আলুর ভালো চাহিদা থাকলে প্রতি কেজি আলু ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির আশা করছেন তিনি। একই এলাকার কৃষক নাজমুল ইসলাম ও পুটিমারী ইউনিয়নের মনছুর আলী জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার গত বছরের লোকসান পুষিয়ে বেশ ভালো লাভ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জে ৪ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আগাম আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত বাজারদর পেয়ে লাভবান হবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।