ঢাকা   ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ । ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
পতেঙ্গায় কোস্ট গার্ডের পৃথক অভিযানে চোরাই মালামাল উদ্ধার, আটক ২ চুয়াডাঙ্গার গৌরব: প্রথম বিজিবি অফিসার হিসেবে কমিশন পেলেন বেগমপুরের রাকিবুল ইসলাম রাজশাহী তানোর চোর চক্র সদস্য আটক অনলাইন জগত: আস্থার সংকট বনাম অফুরন্ত সম্ভাবনা বাঘাইছড়িতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন জকিগঞ্জের সেবামুখী প্রশাসনের প্রতীক ইউএনও মাসুদুর রহমানের বদলি সেতু নির্মাণকাজে ভোগান্তি, শুকনো নদীতে নৌকা নির্ভর যাতায়াত। জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কক্সবাজার জেলা সভাপতির সঙ্গে টেকনাফ উপজেলা কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ সারিয়াকান্দিতে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনায় ব্যবসায়ী গ্রেফতার দুই বেকারত্ব: এক নীরব মহামারীর আখ্যান ও কাঠামোগত সংকট

বিশ্লেষণ: নৈতিক অবক্ষয় ও নেতৃত্ব সংকটে চরম বিভাজিত জাতি

okmedia56@gmail.com
  • প্রকাশিত : শনিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫
  • 86 শেয়ার

খন্দকার মোঃ জসীম উদ্দিনের কলাম বিশ্লেষণ

​ঢাকা, ডিসেম্বর ১৩, ২০২৫ – সাংবাদিক, কলাম লেখক ও রাষ্ট্রচিন্তক খন্দকার মোঃ জসীম উদ্দিন তার সাম্প্রতিক কলামে দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভাজনকে “অকল্পনীয় কুরুক্ষেত্র” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে নেতৃত্ব ও নৈতিকতার চরম সংকটে জাতি এমন এক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে একপক্ষের প্রাণহানিতে অপর পক্ষ উৎসব পালন করছে।
মূল উদ্বেগের বিষয়সমূহ
​কলাম লেখক তার বিশ্লেষণে একটি সভ্য জাতি গঠনের মূল ভিত্তি হিসেবে নৈতিকতা, মানবিক রুচিবোধ ও দেশপ্রেমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, বর্তমানে জাতিরাষ্ট্র এই তিনটি মানদণ্ড থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।
​১. নৈতিক ভিত্তির ক্ষয়: লেখকের মতে, একটি জাতি তখনই সভ্য হয় যখন তার জনগণ উন্নত নৈতিক রুচিবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়। কিন্তু বর্তমানে রাষ্ট্র কর্তৃক জনগণ নিগৃহীত হচ্ছে এবং জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
২. নেতৃত্বের চরম সংকট: সঠিক নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্র ও বিকাশের সুযোগ না থাকায় বর্তমানে নিম্নরুচির, দেশপ্রেমহীন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনকারী নেতৃত্ব দৃশ্যমান। এই সুযোগে একশ্রেণির লোক ব্যক্তিগত ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে ফায়দা লুটছে।
৩. ঐক্যহীনতা ও বিভাজনের প্রকটতা: লেখক উল্লেখ করেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পরও জাতি ঐক্যবদ্ধ হতে পারেনি। বিভাজন বর্তমানে এতটাই প্রকট যে জনগণ পরস্পরকে ‘জানবাজ শত্রু’ হিসেবে দেখছে এবং সামান্য ছাড় দিতেও রাজি নয়।
ঐতিহাসিক শিক্ষা গ্রহণে ব্যর্থতা
​কলামে বারবার বর্গী ও হানাদারদের দ্বারা শোষিত হওয়ার ইতিহাস টেনে আনা হয়েছে। লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, এই আত্মত্যাগ ও শোষণ-নিপীড়ন থেকে জাতি কতটুকু শিক্ষা গ্রহণ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পূর্বপুরুষদের ত্যাগের মহিমায় সম্মান প্রদর্শনের বিকল্প নেই। কিন্তু রাষ্ট্র যখন ‘মীরজাফর’ ও ‘নবাবের’ পার্থক্য বুঝতে ভুলে যায়, তখন তা আর রাষ্ট্র থাকে না।
​উপসংহার: ‘অকল্পনীয় কুরুক্ষেত্র’
​জসীম উদ্দিনের মতে, এই সামগ্রিক অস্থিরতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত ফল হলো সমাজে মারাত্মক বিভাজন। এই বিভাজন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে:
​”এক পক্ষ আরেক পক্ষের প্রাণ নিতেও দ্বিধাবোধ করছে না। একপক্ষের লোক প্রাণ হারালে অপর পক্ষ উৎসব পালন করছে। সে এক অকল্পনীয় কুরুক্ষেত্র।”
​তিনি উপসংহারে এই পরিস্থিতি থেকে জাতিকে বের করে আনার জন্য প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৪