সুবর্ণ বিশ্বাস,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি।
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ৭ নং রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বর্ষা ও পরবর্তী মৌসুমে ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউপি পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ৭ নং রঘুনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানীয় চেয়ারম্যান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ডেঙ্গু কোনো আতঙ্কের নাম নয়, সচেতনতাই এর প্রধান প্রতিরোধক। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ জনগণ নিজ নিজ বাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার না রাখলে কেবল সরকারি বা পরিষদীয় উদ্যোগে এ রোগ নির্মূল করা সম্ভব নয়।”
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ডেঙ্গুর লক্ষণ, প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার জমে থাকা পানিতে বংশবৃদ্ধি করে। তাই বাসাবাড়ির এসি, ফ্রিজ, ফুলের টব বা যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি তিন দিনের বেশি রাখা যাবে না। কোনো ব্যক্তির ডেঙ্গুর লক্ষণ (যেমন: তীব্র জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ভাব) দেখা দিলে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডেঙ্গু রোগীদের সেবায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়:
সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান: ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে জমে থাকা পানি ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারে বিশেষ উদ্যোগ।
মাইকিং ও প্রচারপত্র বিতরণ: হাটে-বাজারে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো।
স্কুল-কলেজে সচেতনতা: শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সভাপতি উপস্থিত সবাইকে নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখার শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং প্রধান অতিথিসহ আগত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।