নিজস্ব প্রতিবেদক, কুয়াকাটা:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক শিশু ও তার মাকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদারকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি। কেন তার বিরুদ্ধে দলীয় ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে তার লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটনের যৌথ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রেরিত চিঠির স্মারক নম্বর ছিল—ZillaBNP/PTK/26-62।
জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১২ বছরের এক শিশু ও তার মায়ের ওপর শারীরিক নির্যাতনের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দলীয় নেতৃত্বের নজরে আসে। এই ঘটনাকে মারাত্মক নৈতিক স্খলন এবং দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে একে অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও গুরুতর অপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
ঘটনার নেপথ্য
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে কলাপাড়ার গামুরবুনিয়া এলাকায় একটি মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে ১২ বছরের শিশু জিসান এবং তার বিধবা মা নাজমা বেগমকে ধরে নিয়ে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার ও তার ভাই আব্দুল হাই তালুকদার মিলে এই নির্যাতন চালান। পরবর্তী সময়ে নির্যাতনের সেই দৃশ্যসংবলিত একটি ভিডিও মঙ্গলবার ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে, এই জঘন্য অপরাধের দ্রুত বিচার দাবি করে আইন-প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ‘ইনসানিয়াত লাইফ ব্লাড ফাউন্ডেশন’ পরিবার।