মোঃ নাঈম উদ্দীন,জীবননগর উপজেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপির বিশেষ টহল দল অভিযান চালিয়ে ১২ লাখ ৪১ হাজার ১০০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চুয়াডাঙ্গা সীমান্তের দর্শনা, মুন্সিপুর, আইসিপি এবং ফুলবাড়ী বিওপি এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এসব আলাদা অভিযানে বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় অবৈধ পণ্য ও মাদক আটক করা হয়। জব্দকৃত মালামালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১৯ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট। ২০০ পিস ভারতীয় ক্রিম এবং ৩৪৮ পিস বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় কসমেটিক্স। ৩ বক্স ভারতীয় চিকিৎসাসামগ্রী এবং ৯.৯ কেজি পারদ। ২ পিস দামি ভারতীয় শাড়ি।
চোরাচালানে ব্যবহৃত ১টি চোরাই বা অবৈধ মোটরসাইকেল।
উক্ত জব্দকৃত সর্বমোট মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ ৪১ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান এই সফল অভিযান সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বলেন, “দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বগ্রাসী মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড শক্তহাতে দমন করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্তকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে বিজিবির এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”
সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ চক্রগুলো বিভিন্ন অভিনব পন্থায় ভারতীয় পণ্য ও মাদক পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র। তবে বিজিবির নিয়মিত ও কঠোর টহল ব্যবস্থার কারণে চোরাকারবারিরা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। জব্দকৃত মাদক ও অন্যান্য মালামাল বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর অথবা কাস্টমসে জমা করার প্রক্রিয়া চলছে।